বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে অনেকের বিলাসবহুল আবাসন থাকলেও আয়কর রিটার্নে নেই তথ্য

🗓 শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ৩২০ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ৩২০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন, এমন ১৭ হাজার ধনী করদাতা তাদের ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপন করেছেন। এভাবে তারা গত পাঁচ করবর্ষে (অর্থবছর) ২৫ হাজার ৩১ লাখ ৯১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন। প্রতি করবর্ষে এসব করদাতা কর ফাঁকি দিয়েছেন গড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এসব কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী। তাদের অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা বিগত সরকারের সময়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন।

এ ছাড়া আরও আছেন সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নামদামি শিল্পী, চিকিৎসক, আইনজীবী, খোলোয়াড়সহ অনেকে।

তথ্য গোপনের তালিকায় আছেন শেখ হাসিনা পরিবারের অনেকে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপিসহ অনেকেই এই তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে ।

এক বছরে ন্যূনতম এক কোটি টাকা আয় করেন, সারা দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল থেকে এমন ১৯ হাজার করদাতার আয়কর রিটার্ন খতিয়ে দেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৯ হাজার করদাতার মধ্যে ১৭ হাজার করদাতাই তাদের ফ্ল্যাট, দামি ও একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপন করেছেন।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, কর ফাঁকিবাজ যত ক্ষমতাশালীই হোক, তার ছাড় নেই। অতীতে এসব অপকর্ম করে পার পেলেও এবার থেকে আর সে সুযোগ নেই।

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ হাজার করদাতার প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। অনেকের বিভিন্ন নামে শতাধিক ব্যাংক হিসাব আছে।

নামে-বেনামে থাকা ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। একটি বা দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ থাকলেও অনেকের ৩০টির বেশি ফ্ল্যাট থাকার বিষয়ে আয়কর গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।

অনেকের কক্সবাজারে বিলাসবহুল আবাসন থাকলেও তার তথ্য রিটার্নে নেই।

অথচ আয়কর আইন অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্থাৎ বাড়ি, প্লট, অ্যাপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাবর সম্পদ থাকলে তার তথ্য সম্পদ বিবরণীতে জমা দিতে হবে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কারও ৫০ লাখ টাকার সম্পদ না থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় যদি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট থাকে তবে তার বিবরণী জমা দিতে হবে।

সিটি এলাকায় বাড়ি-গাড়ি থাকলে এনবিআর থেকে তাকে ধনী করদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বছরে এক কোটি টাকা আয় থাকার পরও রিটার্নে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও ব্যাংকের হিসাবে তথ্য না দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজস্ব আইনে এসব ব্যক্তির নামে মামলা করা হতে পারে।

এ ছাড়া হিসাব কষে জরিমানাসহ কর দিতে হবে।

আয়কর রিটার্নে ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপন রাখার প্রমাণ পাওয়ার পর এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কাছ থেকে দামি গাড়ির মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন।

গাড়ির নিবন্ধন নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ, ম্যানুফ্যাকচারের বছর, ব্র্যান্ডের নাম, ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর, ব্যবহারকারীর ইটিআইএন, নাম, ঠিকানা, গাড়ি বিক্রেতার নাম, ঠিকানার তথ্য চেয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

বিআরটিএর তথ্য পাওয়ার পর বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি যেমন: বিএমডব্লিউ, ভলভো, মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি, লেক্সাস, জাগুয়ার, হ্যামার, প্রাডো, পেট্রল টারবো ওয়াগন, ডিসকভারি, হ্যারিয়ারের মতো ব্র্যান্ডের গাড়ির তথ্যও অনেক করদাতা রিটার্নে উল্লেখ করেননি।

তদন্তে দেখা যায়, অনেকে নিবন্ধন না নিয়ে জাল কাগজপত্র দিয়েও এসব নামিদামি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

তদন্তে দেখা যায়, নিবন্ধন না নিয়ে এসব গাড়ি বিআরটিএর ঢাকার মিরপুর, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, ঝালকাঠি, নেত্রকোনা, পটুয়াখালী, জামালপুর, খাগড়াছড়ি, ফেনী ও কক্সবাজার কার্যালয় থেকে অসাধু দলালদের মাধ্যমে গাড়ি নিবন্ধনের জাল কাগজপত্র জোগাড় করে গাড়ি চালাচ্ছেন।

অথচ এসব গাড়ি আমদানিতে শুল্ককর মিলিয়ে ধার্য করা আছে সর্বোচ্চ ৮২২ শতাংশ।

গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুসারে বা সিসিভেদে অগ্রিম করও দিতে হয়। ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসির কম বা ১২৫-৩০০ কিলোওয়াটের গাড়িতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৩০০০ সিসি থেকে ৩৫০০ সিসি বা ১৫০-১৭৫ কিলোওয়াটের নামিদামি গাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা ও ৩৫০০ সিসির বেশি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের গাড়ির জন্য বার্ষিক অগ্রিম কর সাড়ে তিন লাখ টাকা অগ্রিম কর দিতে হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, শেখ হাসিনা পরিবারের অনেকে, সাবেক সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকের নাম আছে।

এসব ব্যক্তির অনেকে অন্যের নামে ফ্ল্যাট কিনেছেন।

সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউর রহমান, পুলিশ কর্মকর্তা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক (বরখাস্ত), পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে আছেন এ তালিকায়।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ বলেন, বহু বছর ধরে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপন করে কর ফাঁকি দিলেও কোনো না কোনো কৌশল করে পার পেয়ে যায়।

এদের ধরতে এনবিআরকে আটঘাট বেঁধে নামতে হবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর