সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড : পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

🗓 সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা সম্পাদকীয়(১৯ অক্টোবর) :: কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় গত শনিবার একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক পুড়ে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত।

ইট ও কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সকালের দিকে ওই সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিল, সেই অবস্থায় পুড়ে অঙ্গার হয়েছে তারা।

নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রিসোর্টটির কোনো অনুমোদন ছিল না। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৩ মে রিসোর্টটিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছিল।

এ ছাড়া ছিল না অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও। জানা যায়, আগুন লাগার পর যারা লাফ দিতে পেরেছে, তারাই প্রাণে বেঁচেছে।

এ কারণে মৃত্যুর তালিকায় নারী ও শিশুরাই বেশি। দেখা যাচ্ছে, অব্যবস্থাপনার কারণেই এতগুলো মানুষকে পুড়ে মরতে হলো।

আরো উদ্বেগের খবর হলো, শুধু এই রিসোর্ট নয়, কক্সবাজারজুড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগেরই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা।

অন্যদিকে এসব নজরদারির দায়িত্বে থাকা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘আমাদের হোটেলগুলো অনেক আগে নির্মিত।

তাই এখনকার মতো আধুনিক ব্যবস্থা নেই।’ অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস বিভাগ এ নিয়ে দায়সারা জবাব দিয়েছে।

এই অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে, পর্যটনশিল্পের প্রসারে আমরা যখন বিনিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রচারণার কথা বলছি, তখন পর্যটক ও কর্মীদের জীবন রক্ষায় নিশ্চয়তা কতটা দিতে পারছি?

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিসোর্টটিকে আগেই সতর্ক করেছিল, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী ছিল?

সতর্কবার্তার পরও যদি ঝুঁকি দূর না করে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হয়, তাহলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, তদারকির ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার।

আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনার পর কিছুদিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তোড়জোড় দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবারও একই অবস্থা। সংগত কারণেই এমন ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলার সুযোগ নেই।

শুধু কক্সবাজার নয়, খোঁজ নিলে দেশের অনেক হোটেল-রিসোর্টেও এমন ত্রুটি পাওয়া যাবে। কাজেই পর্যটনশিল্পের বিকাশে এসব ত্রুটি দূর করা একান্ত জরুরি।

আমরা মনে করি, ইনানীর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সঙ্গে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা রোধে দেশের হোটেল-রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এই বিভাগ এর আরো খবর

জ্বালানি ভর্তুকি চায় না আইএমএফ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর