বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবিরের বাইরে রোহিঙ্গাদের বসবাস এলাকায় নানান অপরাধ

🗓 বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ১৬১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ১৬১ বার দেখা হয়েছে

দীপন বিশ্বাস :: কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফে শত শত নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা স্হানীয়দের বাসা- বাড়ি ভাড়া অত্যন্ত স্বাছন্দে দিনযাপন করছেন। এসব রোহিঙ্গারা এলাকায় দিন দিন নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

হত্যা, অপহরণ, মানব পাচার, মাদকের ছড়াছড়ি, চুরি, ডাকাতিসহ এমন কোন অপরাধ নেই যে তারা করছে না। এসব কাজে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন স্হানীয় প্রভাবশালী ও আশ্রয় দাতারা। এসবের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। যার ফলে দিন দিন অপরাধ বাড়ছে।

সুত্র জানায়, শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম শিকদার পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারী ২৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। এসময় আশ্রয়দাতা ১ জন স্থানীয়কেও আটক করা হয়।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, সম্প্রতি অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবৈধভাবে ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে এবং কেউ কেউ জায়গা কিনে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছে। তারা ক্যাম্পের বাইরে এসে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকপাচার ও অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কক্সবাজারসহ আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে।

আটক আশ্রয়দাতার নাম বোরহানউদ্দিন (১৮)। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার রশিদ আহম্মেদের ছেলে এবং বর্তমানে পশ্চিম শিকদার পাড়ায় বসবাস করছিলেন।

সূত্র জানায়, “রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান রোধে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পূর্ব পানখালী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন এমন অভিযোগে গত ৯ অক্টোবর বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ক্যাম্পের বাহিরে বসবাসকারী ৩৭ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী এবং বাড়ির মালিক এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

আটক হওয়া বাড়ির মালিক পূর্ব পানখালী নুর আলমের স্ত্রী মোছাম্মৎ ইয়াছমিন আক্তার (৩৪)। অন্যান্য আশ্রয়দানকারী বাড়ির মালিকগনকে অভিযানকালে পাওয়া যায়নি। আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়া অধ্যুষিত ইউনিয়ন উখিয়ার রাজাপালং এর কুতুপালং এলাকার স্হানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের ধারা আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রশাসন যে অভিযান চালায় তা পর্যাপ্ত নয়। যার ফলে অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। এমন কোন দিন নেই তাদের অপরাধের খবর আসছে না।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য এখন বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। এমন কোন অপরাধ নেি যে তারা করছে না। এদের কঠোর হস্তে দমন করা না হলে অচিরেই এ এলাকা অপরাধের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হবে। এত কড়কড়ির পরও তারা অনায়াসেই ক্যাম্প থেকে বের হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ধরা পড়লে আইনের ফাঁকে জেল থেকে বের হয়ে পড়ে। আগে এটা রুকতে হবে। তারা যেন ছাড়া না পায়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্হা গ্রহণ করছি। কোন রোহিঙ্গা যাতে এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আছে। ক্যাম্পের বাইরে যেখানেই রোহিঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর