বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অপারেশন মুভ আর্থ’ : সিরিয়ার মরুভূমির গোপন স্থানে বিশাল গণকবর

🗓 বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ২৯৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ২৯৮ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের ভাবমূর্তি ফেরাতে দুই বছর ধরে এক গোপন অভিযান চালিয়েছে।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্তে জানা গেছে, সিরিয়ার সবচেয়ে বড় ও পরিচিত গণকবরগুলোর একটি থেকে হাজার হাজার মরদেহ ট্রাকে করে সরিয়ে মরুভূমির এক গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে আরেকটি বিশাল গণকবর তৈরি করা হয়েছে।

ধুমায়ের শহরের বাইরে মরুভূমিতে এ গোপন গণকবরটির অবস্থান উন্মোচন করতে এবং পুরো অভিযানের বিশদ বিবরণ জানতে রয়টার্স ১৩ জনেরও বেশি প্রত্যক্ষদর্শী এবং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে।

এছাড়া, কয়েক বছর ধরে তোলা দুটি কবরের স্থানের শত শত স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কুতাইফাহ থেকে কয়েক ডজন কিলোমিটার দূরে আরেকটি গোপন স্থানে মরদেহ স্থানান্তরের এই অপারেশনটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন মুভ আর্থ’। অভিযানটি চলেছিল ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে জানা যায়, ধুমাইর মরুভূমির এই নতুন গণকবরটি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া গণকবরগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। এতে অন্তত ৩৪টি ২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিখা রয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, সেখানে দশ হাজারেরও বেশি মৃতদেহ থাকতে পারে।

আসাদ সরকার গৃহযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে, ২০১২ সালের দিকে, কুতাইফাহতে মরদেহ দাফন শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই গণকবরে আসাদের কারাগার ও সামরিক হাসপাতালে মারা যাওয়া সেনা ও বন্দিদের মরদেহ ছিল।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় প্রতি সপ্তাহে চার রাত ধরে ছয় থেকে আটটি ট্রাক মাটি ও মানুষের দেহাবশেষ বোঝাই করে কুতাইফাহ থেকে ধুমায়েরের মরুভূমিতে পৌঁছাত।

যেসব চালক, মেকানিক এবং আসাদের এলিট রিপাবলিকান গার্ডের প্রাক্তন কর্মকর্তারা এই স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই সেই ভয়াবহ গন্ধের কথা স্পষ্ট মনে করতে পারেন।

সিরীয় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক আসাদের বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং মনে করা হয়, তাদের সমাহিত করা হয়েছে আসাদ প্রশাসনের তৈরি কয়েক ডজন গণকবরে।

মরদেহ সরানোয় কাজ করা দুই ট্রাকচালক এবং একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামরিক কমান্ডাররা তাদের বলেছিলেন যে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো কুতাইফাহ গণকবরটি পরিষ্কার করা এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লুকিয়ে ফেলা। আসাদের পতনের আগে রয়টার্সের নথিভুক্ত ১৬টি পরিখার সবগুলোই খালি করা হয়েছিল।

ভয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিল কর্মচারীরা। এ গোপন অভিযানের সঙ্গে জড়িত চালক, মেকানিক এবং অন্যান্যরা জানিয়েছেন, সে সময় মুখ খুললে তাদের নিশ্চিত মৃত্যু হতো। একজন চালক বলেন, ‘কেউ নির্দেশ অমান্য করত না। অমান্য করলে তাকেই হয়তো সেই গর্তগুলোয় যেতে হতো।‘

সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য একটি নতুন জাতীয় কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিলেও সম্পদের অভাব এবং বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনে কাজ ধীর গতিতে চলছে। কমিশনের পক্ষ থেকে ডিএনএ ব্যাংক এবং নিখোঁজ পরিবারের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

বঙ্গভঙ্গের কুশীলব লর্ড কার্জন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর