কক্সবাংলা ডটকম :: বার্সেলোনাকে ৩-২ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে নয় বছর পর প্রথমবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
অন্যদিকে অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতে ২-০ গোলের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সেমি-ফাইনালে উঠেছে পিএসজি।
গতকাল মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদ ২-১ ব্যবধানে হেরে গেলেও প্রথম লেগে কাতালান ক্লাবটির বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয় তাদের শেষ চার নিশ্চিত করে। খবর রয়টার্স।
ডিয়েগো সিমিওনের দল প্রথম লেগে বড় সুবিধা নিয়েছিল। তবে ফিরতি লেগে বার্সেলোনা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে ম্যাচে ফিরে আসে এবং প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের গতি পাল্টে দেয়।
মাত্র ৪ মিনিটেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। ক্লেমঁ ল্যাংগলের একটি দুর্বল ব্যাকপাসে বল পেয়ে ফারান তোরেসকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণ গড়ে ইয়ামাল গোল করেন। ২৪ মিনিটে ড্যানি ওলমোর পাস থেকে ফারান তোরেস একক প্রচেষ্টায় দারুণ শটে ব্যবধান ২-০ করেন।
তবে ৩১ মিনিটে আতলেতিকো ম্যাচে ফিরে আসে। মার্কোস লোরেন্তে ডান দিক থেকে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে নিচু ক্রস দেন, যা লুকম্যান ফিনিশ করেন এবং দলকে অ্যাগ্রিগেটে আবার এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা বল দখলে আধিপত্য দেখালেও গোল পায়নি। তারা তৃতীয় গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। পেদ্রি ও গাভি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও আতলেতিকো রক্ষণ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করে।
শেষদিকে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া শেষ খেলোয়াড় হিসেবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন এবং দল ১০ জনে নেমে যায়। এরপর আর কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় আতলেতিকো ৩-২ অ্যাগ্রিগেটে জয় নিশ্চিত করে শেষ চার নিশ্চিত করে।
দেম্বেলের জোড়া গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি
কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নেমেও ব্যর্থ হলো লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতে ২-০ গোলের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সেমি-ফাইনালে উঠেছে পিএসজি।
ম্যাচের দুই গোলই করেন উসমান দেম্বেলে। ঘরের মাঠে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা পিএসজি ফিরতি লেগেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে।
প্রথমার্ধে মাত্র চারটি শট নিতে পারে লিভারপুল। তবে বিরতির পর আক্রমণের ঝড় তোলে তারা, নেয় আরও ১৭টি শট—যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে পিএসজি ১২ শটের ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
শুরুর দিকে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল পিএসজি। ম্যাচের মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন উগো একিটিকে; বদলি নেমে মোহামেদ সালাহ আক্রমণে গতি আনেন। তার তৈরি সুযোগে শট নেন ভার্জিল ফন ডাইক, তবে গোললাইন থেকে দলকে বাঁচান মার্কিনিয়োস।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পায়নি লিভারপুল। ৬৪তম মিনিটে ম্যাক এলিস্টার পেনাল্টির দাবি করলেও ভিএআরে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। পরের দিকে তরুণ রিও নুগোমোহা ও কোডি হাকপোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
৬৭তম মিনিটের পর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় পিএসজি। প্রথমে দূরপাল্লার শটে দেম্বেলে ব্যবধান বাড়ান। পরে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বার্কোলার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
এই জয়ে সেমি-ফাইনালে উঠে পিএসজি, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ বা রিয়াল মাদ্রিদ।













