নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিড লাইনের বিদ্যুৎ পুরোপুরি গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সেবার মান নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই।
গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, লাইন সংযোগে অনিয়ম ও মিটার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভ বেড়েছে কুতুবদিয়া পিডিবির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বাড়ির মিটার সামান্য সমস্যা দেখলে তারা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেন।
এরপর কর্মচারীরা এসে “চেকিং” বা “ব্যাটারি পরিবর্তন”-এর নামে কয়েক হাজার টাকা আদায় করেন, কিন্তু রসিদ দিতে গড়িমসি করেন।
ভুক্তভোগী জাহেদ নামের এক গ্রাহক বলেন, “আমার মিটারে টাকা রিচার্জ করার পরে দেখতে না বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করি।
এক কর্মচারী এসে ব্যাটারি পরিবর্তন করে ২ হাজার টাকা নিলেন। পরদিন ব্যাংক রিসিভ কপি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও পাইনি।”
আরেক গ্রাহক আলমগীর জানান,“বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীদের পাশাপাশি বাইরের লোকেরাও লাইনের কাজ করে।
এতে অনিয়ম বাড়ছে, সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন।”
একইরকম অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আরও অনেক গ্রাহক।
নাজের হোসাইন জানান, কয়েকদিন পরপর তার মিটারে সংযুক্ত সার্ভিস তারে লোজ কানেকশন দেখা যায়। তা ঠিক করতে গেলে প্রতিবারই ২/৩শ টাকা খরচ হয়।
টাকা না দিলে দিনের পর দিন অন্ধকারে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাইনম্যান কায়ছার বলেন, “টাকা নেওয়া হয়েছে টেম্পার টোকেন ফি বাবদ, বাকিটা যাতায়াত খরচ।”
তবে কুতুবদিয়া পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী সুভাষ চৌধুরী বলেন, “মিটারের ব্যাটারি পরিবর্তনের সময় টেম্পার টোকেন ফি বাবদ সরকারি নির্ধারিত ১,৮৪০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, তা নিয়মবহির্ভূত।”
এ ঘটনায় গ্রাহক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাটারী পরিবর্তনের সময় বারবার টেম্পার টেকেন ফি দিতে হলে গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হবে।
তাছাড়া অন্য কোথাও মিটার লক না হলে এই টেম্পার টোকেন নিতে হয় না বলে জানান ভোক্তভোগী গ্রহকেরা।
তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।














