কক্সবাংলা ডটকম(২০ অক্টোবর) :: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দিনক্ষণ আরও এক সপ্তাহ এগিয়ে আনতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কেননা রোজার আগেই সরকার গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে তারা।
জানা গেছে, ৩ ডিসেম্বর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। আর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি।
গত আগস্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
নির্বাচন কমিশনও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলেও ভেতরে ভেতরে তা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সরকার নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। নানা মহল নির্বাচন বিলম্ব করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।
সরকার চাইছে রোজা শুরুর আগেই নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে। এসব বিবেচনায় নিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হলে তারাও এতে সায় দিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, যেহেতু ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রমজানের আগে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছি।
আমাদের যত চ্যালেঞ্জ আসুক, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যত ধরনের সমস্যা আসুক, আমরা আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করব।’ গত শনিবার বিকালে বরিশালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সূত্র জানায়, আগামী ৩ ডিসেম্বর বুধবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেদিনই তিনি নির্বাচনের তারিখ জানিয়ে দেবেন।
প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ফয়েজ আহম্মদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময় অনুয়ায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে।
এদিকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও প্রতিটি রাজনৈতিক দল জোরেশোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানিয়েছে।
প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য কয়েক দফা জরিপ সম্পন্ন করে প্রায় ২০০ প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছে।
ইতিমধ্যে সারা দেশে বেশ কিছু প্রার্থীকে গণসংযোগ চালানোর সবুজ সংকেতও দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সমমনা ও জোটের শরিক দলগুলোকে আসন ছাড় দেওয়ার আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার আগে চলতি মাসের শেষ দিকে তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন তিনি।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হয়ে গেছে।
জামায়াত ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, দলটি গাজীপুর-৬ ও নরসিংদী-৫-এ দুটি আসন ছাড়া জাতীয় সংসদের বাকি ২৯৮টি আসনের প্রার্থী ঠিক করে প্রায় চার মাস আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। এখন কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি।
এর অংশ হিসেবে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করা হচ্ছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এ কার্যক্রমগুলো শেষ হবে বলে জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াত ইসলামীও নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনের তালিকা করা হয়েছে। পরে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় বেশি নেই, আমাদের প্রার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, ভোট চাইছেন। আশা করছি জনগণ আপনাদের পক্ষে রায় দেবে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, নির্বাচন যখনই হোক তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বৈঠক করেন। সেখানে এপ্রিল থেকে এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আমি মনে করি, রোজার আগেই দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, শুধু ফেব্রুয়ারি নয়, বিএনপি যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি শত অত্যাচার সহ্য করে মানুষের ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণ ন্যায়সংগতভাবে বিএনপিকে বিবেচনা করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কোন ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন
একই দিনে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতি। তবে আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে গণভোট আয়োজনের পর জাতীয় নির্বাচনের দাবি তুলছেন অন্যরা। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বললে এসব বিষয়ে তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে- সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও সে অনুসারে যার যার মতো করে নির্বাচনি প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে। গণভোটের চূড়ান্ত সময়টা নির্ধারণ হলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির নীতিনির্ধারক সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৫টি রাজনৈতিক দল একমত হয়ে এতে স্বাক্ষর করেছে। যে চার-পাঁচটি দল এখনো স্বাক্ষর করেনি, তারা যে পরবর্তী সময়ে স্বাক্ষর করবে না, এমন কথা তারা কেউ বলেনি। অর্থাৎ তারাও যে কোনো সময় এতে স্বাক্ষর করতে পারে। এখন আসে এটি বাস্তবায়নের প্রশ্ন।
সনদে যেসব বিষয় পরিপত্র জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব সেগুলো সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হবে। আর যেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনীর প্রয়োজন হবে- সেগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত পার্লামেন্টে সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে ‘এখন আপনারা বসে ঠিক করুন- নির্বাচন কীভাবে করবেন?’
প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা একচুয়েলি জুলাই সনদসংক্রান্ত গণভোটের কথাই বলেছেন। আমরা তো সেই গণভোটের বিষয়েও সবাই সম্মত হয়েছি। এখন শুধু এই গণভোটের সময়টা জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে, নাকি পরে অয়োজন করা হবে- সেটি চূড়ান্ত/নির্ধারণ করতে পারলেই এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। তবে আমরা ইতোমধ্যেই বলেছি যে এই গণভোটের জন্য আলাদাভাবে বিশাল পরিমাণের অর্থ এবং সময় নষ্ট না করে জাতীয় নির্বাচনের সময় একসঙ্গে একটি ব্যালট ব্যবহারের মাধ্যমেই এই গণভোটটি করে নেওয়া যেতে পারে।
এতে দেশের অর্থ, জনবল এবং সময় সবকিছুই বাঁচবে। অপরদিকে অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল চাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই আলাদাভাবে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে এই গণভোটের আয়োজন করতে। এটা দেশের অর্থ, জনবল আর সময়ের জন্য কতটুকু ভায়াবল হবে, সেটিও বিবেচনা করে দেখার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই গণভোটের বিষয়েই রাজনৈতিক দলগুলোকে কথা বলতে বলেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। কারণ আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল ৬৫-এ নির্বাচনি পদ্ধতির কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। ফলে সংবিধানে বিদ্যমান সরাসরি ভোটের পদ্ধতিতেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দাবি তারা করতেই পারেন। কিন্তু নির্বাচন হবে সংবিধান অনুসারে।
নির্বাচনে জোট গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সমমনা দল ও জোট এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপি একটি নির্বাচনি জোট গঠন করবে। এমনকি যেসব দল ফ্যাসিস্টবিরোধী মত পোষণ করে তারাও এই জোটে স্থান পাবে।
আগে গণভোট পরে নির্বাচন- গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করে তার আলোকে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। এগুলো মানা হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে মত দেন তিনি।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন এবং সরকারপ্রধানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যেসব সংস্কারমূলক প্রস্তাবে সবাই একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য এখন দুটি প্রধান কাজ বাকি আছে। প্রথমত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা।
দ্বিতীয়ত গণভোটের ব্যবস্থা করা। নভেম্বরের মধ্যে গণভোট দিয়ে এই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এরপরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ একই দিনে গণভোটের প্রস্তাব দিলেও এর সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। কারণ একই দিনে দুইটা ভোট হলে অল্প সময়ের মধ্যে একজন ভোটারের পক্ষে তা কঠিন হবে। ফলে অনেক ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।
এ ছাড়া নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বড় নির্বাচনে কিছু ভোট কেন্দ্রে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, সহিংসতা, হানাহানি বা মারামারির ঘটনা ঘটে- যার ফলে কিছু কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হতে পারে। যদি জাতীয় নির্বাচনের কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হয়, তাহলে গণভোটের কেন্দ্রের কী দশা হবে? ওই ভোটের গণনা কীভাবে হবে? ফলে কোনো ফলাফল বের করা সম্ভব হবে না।
নব্বইয়ের ত্রিদলীয় রূপরেখার চেয়ে শক্তিশালী সনদ হচ্ছে না
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, ঐক্যমত কমিশন এবং জুলাই সনদকে আমরা সফল হতে দেখছি না। জুলাই সনদের অন্তিমমুহূর্তে এসে আমরা দেখছি বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনটা আসলে একটা ভাগবাঁটোয়ারার বা পাওয়ার স্টেক ভাগ করার একটা আয়োজনে বসেছে। ফলে জুলাই সনদটা মোটাদাগে একটা ’৯০ সালে ত্রিদলীয় রূপরেখার চেয়ে শক্তিশালী কোনো সনদ হতে যাচ্ছে না। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
সামান্তা শারমিন বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নে সবগুলো রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত এখন সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের জনগণের সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট ধারণকারী মনে করছে। জুলাই সনদ ব্যর্থ হওয়ার দায় তাদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনটা আসলে একটা ভাগবাঁটোয়ারার বা পাওয়ার স্টেক ভাগ করার আয়োজনে বসেছে। সামনের নির্বাচনে বিএনপি কতটুকু পাবে, জামায়াত কতটুকু পাবে? কতটুকু হচ্ছে রাষ্ট্রের একদম ইটসেলফ পাওয়ার হিসেবে থাকবে। বাকি দলগুলো মিলে কতটুকু পাবে এটার একটা ভাগবাঁটোয়ারায় বসেছে।
সামান্তা বলেন, জুলাই সনদটা মোটাদাগে নব্বইয়ের ত্রিদলীয় রূপরেখার চেয়ে শক্তিশালী কোনো সনদ হতে যাচ্ছে না। সনদে সাইন করা হয়ে গেছে। এরপরে ঐকমত্য কমিশনের আর কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ঐকমত্য কমিশন বেসিক্যালি সনদ নিয়ে আর বসতে চায় না। সনদের বাস্তবায়নপদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে কাজ করতে চায় না। কিন্তু আমরা এটাও দেখছি যে বিভিন্ন দেশে ৮-১০ বছরও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয় কেন?
গণভোট ভিন্ন দিনেও হতে পারে- মান্না :
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পৃথক দিনে হতে পারে। আবার একই দিনেও হতে পারে। ভিন্ন দিনে এই দুটি ভোট হলে কোনো ত্রুটি থাকবে না। আলাদা দিনে গণভোট দিলে সরকারের মাত্র ২৬৫ কোটি টাকা খরচ হবে। এত বড় একটা ইস্যুতে এই পরিমাণ টাকা ব্যয়ে একটা গণভোটের আয়োজন করাটা কোনো বিষয় নয়।
জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এটা নিয়ে তো কারও কোনো সংশয় নেই। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী সরাসরি ভোটেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি জামায়াতে ইসলামীর দলীয় দাবি। এ পদ্ধতিতে কোনো ভোট হবে না।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে হতে হবে- জোনায়েদ সাকি :
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে ঐকমত্য হওয়ার পর জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছে। আমরা বলেছি, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও আগামী আইনসভার মৌলিক সংস্কারের কাজ হবে। একসঙ্গে ভোট হলে সবার জন্যই ভালো হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলো অতিক্রম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ভোটকে সুষ্ঠু অবাধ ও সুন্দরভাবে করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সেইভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। সেটা সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আগে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। জাতিকে পক্ষপাতবিহীন নির্বাচন উপহার দিতে হবে। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সব প্রার্থী যেন যথাযথ প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন নয়- মামুনুল হক :
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া আগামী দিনে জাতীয় নির্বাচন নয়।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
মামুনুল হক সরকারের উদ্দেশে বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাংলাদেশের বাঁচামরার প্রশ্ন। আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর ক্ষমতার মসনদে বসে আজও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে পারেননি।
দাবি আদায়ে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে। এর বিকল্প কোনো চিন্তার সুযোগ বাংলাদেশের মাটিতে নেই।
তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে যদি কেউ বাইপাস করে আগামীর বাংলার রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে চায়, তাহলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
মামুনুল হক আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসাটা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য লজ্জার বিষয়।
স্পষ্ট ভাষায় বলছি, অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রাথমিক আইনি ভিত্তি ঘোষণা করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের যথেষ্ট সময়ের আগেই বিশেষ করে ডিসেম্বরে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কার্যকর হতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে।














