প্রেস বিজ্ঞপ্তি(১৫ মার্চ) :: ২০২৮ সালে হেনরিক ইবসেন-এর জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী, যা বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় করে রাখা হবে।
এই বৈশ্বিব্যপী উদযাপনের অংশ হিসেবে এ বছর ২০ মার্চ এই নরওয়েজীয়ান নাট্যকারের ১৯৮ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে।
এই উপলক্ষে ঢাকাস্থ রয়েল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস ১৫ মার্চ “ইবসেন এক পরিবেশশিল্পী” শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সাবিহা হক, যিনি তাঁর আসন্ন মনোগ্রাফ ইবসেনের সবুজ ও নীল কার্টোগ্রাফি (Ibsen’s Green and Blue Cartography) থেকে কিছু অংশ উপস্থাপন করেন।
বইটি ২০২৮ সালে ইবসেনের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেন (১৮২৮–১৯০৬) মূলত তাঁর সামাজিক নাটকের জন্য সুপরিচিত, যেখানে মধ্যবিত্ত নগরজীবনের পারিবারিক বাস্তবতা এবং তার অন্তর্নিহিত মতাদর্শিক টানাপোড়ন গুরুত্ব পায় ।
অধ্যাপক সাবিহা হকের মনোগ্রাফ Ibsen’s Green and Blue Cartography- তে ইবসেনের নাটকে প্রকৃতির উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি—বিশেষ করে বন, পাহাড় এবং সমুদ্রের প্রতীকী তাৎপর্য—মানুষের মনোজগতে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বইটিতে ইবসেনের নাট্যকর্মকে প্রকৃতির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হয়েছে—যেখানে বন ও পর্বতকে ‘সবুজ’ এবং সমুদ্রকে ‘নীল’ মানবিকীবিদ্যার তাত্ত্বিক ধারণার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে—এবং তা মানুষের মনোজগতের উপর কী প্রভাব ফেলে তা আলোচিত হয়েছে।

অধ্যাপক হকের মতে, বইটির মূল উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়টি তুলে ধরা যে ইবসেনের সামাজিক নাটকগুলোতেও প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য এক ধরনের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান।
তাঁর ভাষায়, এসব নাটক আমাদের সামনে তুলে ধরে “এমন এক শুষ্ক ও অনুর্বর প্রান্তরের অনুভূতি, যেখানে আনন্দের অভাব এবং মানুষের মন যেন নানা বন্ধনে আবদ্ধ।”
ইবসেনের চরিত্রগুলো জটিল দার্শনিক ও অস্তিত্ববাদী প্রশ্নে নিমজ্জিত থাকে।
এই বইয়ের ধারণা অনুযায়ী, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রকৃতির সঙ্গে তাদের বিচ্ছিন্নতা।
অন্যদিকে, তাঁর কিছু নাটকে প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে নাটকগুলোর মানবিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়ার গুরুত্বের কারণে এই প্রাকৃতিক পটভূমি অনেক সময় পাঠক ও দর্শকের মনোযোগ থেকে আড়ালে থেকে গেছে।
তাঁর বইয়ে ড. হক ইবসেনের নাট্যপাঠ বিশ্লেষণ করবেন এবং পরিবেশ-মানববিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু নির্বাচিত মঞ্চ ও সিনেমা প্রযোজনাও আলোচনা করবেন।
পাশাপাশি তিনি ইবসেনের ভাষা ও শব্দভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে সেখানে প্রকৃতির উপস্থিতির চিহ্ন খুঁজে দেখবেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল ইবসেন কমিটি-এর সদস্য ড. সাবিহা হক উপস্থিত শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং তাঁর গবেষণা ও এর বিস্তৃত তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামতের জবাব দেন।















