রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুত্বের আড়ালে লুকানো শত্রুতা যেভাবে চিনবেন

🗓 শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১০৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১০৮ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: বন্ধুত্ব মানেই ভরসা, আস্থার জায়গা। বিপদে যে ছায়া হয়ে পাশে থাকে, সাফল্যে যে উল্লাসে ফেটে পড়ে- সে-ই তো প্রকৃত বন্ধু। কিন্তু সব বন্ধুত্বের সমীকরণ এক হয় না।

মনোবিদদের মতে, অনেক সময় বন্ধুর বেশে পাশে থাকা মানুষটিই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সচেতন বা অবচেতনভাবে বন্ধুর মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হওয়া বা মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হওয়ার মতো আচরণকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ফ্রেন্ডশিপ স্যাবোটাজ’ বা বন্ধুত্বের অন্তর্ঘাত।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

তথাকথিত প্রিয় বন্ধুটি ভালো চাইছে কি না, তা বোঝার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। নিউরোসাইকোলজিস্ট ড. জুডি হো গাভাজ্জার মতে, কিছু আচরণ দেখলেই সাবধান হওয়া জরুরি:

  • আপনার বড় কোনো অর্জনে তারা খুশি হওয়ার বদলে বিষয়টি এড়িয়ে যায় বা এমন মন্তব্য করে যাতে আপনার আনন্দ মাটি হয়ে যায়।
  • প্রতিটি বিষয়ে তারা আপনার সঙ্গে পাল্লা দিতে চায়। আপনি একটি সুখবর দিলে তারা তার চেয়েও বড় কোনো গল্পের অবতারণা করে আপনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
  • আপনি বিশ্বাস করে যে কথাটি বন্ধুকে বলেছিলেন, সেটি যদি অন্যদের মধ্যে প্রচার হয়, তবে বুঝবেন আপনার বন্ধুটি বিশ্বাসের মর্যাদা রাখছে না।
  • এ ছাড়া ‘ব্যাকহ্যান্ডেড কমপ্লিমেন্ট’ অর্থাৎ প্রশংসার আড়ালে অপমান—এ ধরনের আচরণের আরেকটি চিহ্ন। এমনভাবে প্রশংসা করা যাতে আপনার দুর্বলতাই সামনে আসে।
  • অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেয়া পরামর্শ বারবার বিপরীত ফল দেয়। আবার অন্যদের সামনে নেতিবাচক মন্তব্য করা, তুলনা টানা, বা ছোট করে দেখানোর প্রবণতাও থাকতে পারে।
  • সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—ভুল স্বীকার না করা। বরং উল্টো আপনাকেই দোষী মনে করানোর চেষ্টা, যা গ্যাসলাইটিং-এর লক্ষণ।

কেন বন্ধুরা এমন করে?

বন্ধুর ক্ষতি করার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ করে হীনম্মন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতা। থেরাপিস্ট জেনা নিলসেনের মতে, আপনার উন্নতি যখন বন্ধুর নিজের ব্যর্থতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তখনই অবচেতন মনে ঈর্ষার জন্ম হয়।

এছাড়া অতীতের কোনো তিক্ততা, আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা কিংবা অন্যের সমব্যথা পাওয়ার নেশা থেকেও অনেকে বন্ধুর ক্ষতি করে থাকেন।

করণীয় কী?

যদি বুঝতে পারেন আপনি এমন কোনো বিষাক্ত (টক্সিক) বন্ধুত্বের বৃত্তে আটকে আছেন, তবে নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন:

১. আপনার যদি মনে হয় কিছু একটা ঠিক নেই, তবে সেই অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। কোনো কারণ ছাড়াই কেউ আপনাকে মানসিকভাবে ছোট করলে তা এড়িয়ে যাবেন না।

২. অস্বস্তি হলে সরাসরি কথা বলুন। তাকে জানান যে তার নির্দিষ্ট কোনো আচরণে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন। যদি সে ভুল স্বীকার করে শুধরে নিতে চায়, তবেই সুযোগ দিন।

৩.: সব বন্ধুকে জীবনের সব খবর জানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যারা আপনার ক্ষতি করতে পারে, তাদের কাছে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিন।

৪. মনোবিদ ড. গাভাজ্জার পরামর্শ হলো, কোনো বন্ধুত্ব যদি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়, তবে সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। জীবন অনেক ছোট, তাই এমন মানুষদের সাথে সময় কাটান যারা আপনার উন্নতির পথ বিকশিত হতে সাহায্য করবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর