এম জিয়াবুল হক,চকরিয়া :: কালবৈশাখীর তান্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাত তিনটার দিকে শুরু হওয়া আকস্মিক ঝড়ে ভেঙে গেছে বসতবাড়ি, গাছপালা, উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।
একইসঙ্গে দমকা হাওয়ার সঙ্গে নেমে আসা বৃষ্টিতে বির্স্তৃীন ফসলের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। অনেক এলাকায় ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে হাঁটু পানির নীচে।
৪০ মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়া দমকা হাওয়ার তান্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে প্রচন্ড গতিতে শুরু হওয়া কালবৈশাখীর প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছ উপড়ে পড়ে কমবেশি কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া গৃহস্থালি বাড়িভিটার গাছসহ গ্রামীন সড়কের গাছপালা ভেঙে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যহৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য মতে, কালবৈশাখীর ঝড়ে কৃষকের রকমারি ফসলের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
এছাড়াও ঝড়ো হাওয়ার কারণে লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাত তিনটা থেকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বন্ধ রয়েছে।
কালবৈশাখীর তান্ডবে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার কারণে ১৫ ঘন্টা সময় অতিবাহিত হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন চালু করতে পারেনি।
তবে চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চকরিয়া উপজেলা কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ এমরান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকৌশলীরা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ করছেন।
উপড়ে পড়া খুঁটি স্থাপন এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার লাগিয়ে কাজ করতে একটু বেগপেতে হচ্ছে।
তবে বিকালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন চালু করা হয়েছে। আশাকরি রাতের মধ্যে অবশিষ্ট সংযোগ লাইন চালু করা সম্ভব হবে।
চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব বলেন, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
মঙ্গলবার সারাদিন উপজেলা প্রশাসন এবং পিআইও বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কী পরিমাণ ক্ষতিসাধন হয়েছে, তা নির্ণয় করে পিআইও কার্যালয়ে তালিকা জমা দিতে।
রুপায়ন দেব বলেন, তালিকা হাতে আসার পর কালবৈশাখী তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।















