এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: দু’দফায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
ঝড়ো বাতাসে গাছপালা উপড়ে পড়ে সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার লোকজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাত তিনটায় প্রথম এবং বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দু’দফায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের পর থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নষ্ট হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠানও।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), চকরিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এবং কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে বিদ্যুতের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, ঝড়ে তাদের অন্তত ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে আরও ২৯টি খুঁটি এবং পাঁচটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিপিডিবির আওতাধীন চকরিয়া পৌরসভা, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা ও পূর্ব বড় ভেওলার বিভিন্ন এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলায় বিপিডিবির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার; যা চকরিয়া ও লামা উপজেলার কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত। ’
টানা দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চকরিয়া উপজেলার জনজীবন এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এমরান গণি নিশ্চিত করেছেন, ‘টানা দুইদিনের ঝড়ো বাতাসে বহু স্থানে গাছপালা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়েছে। প্রায় ২০০ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে।
এ অবস্থায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট সনাক্ত করে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার জন্য।
পিডিবির চকরিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ‘ঝড়ে চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আমরা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’ তারপরও আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে সক্ষম হয়েছি।
চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার কোথাও ‘বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও সংযোগ লাইন মেরামতের কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করবে বলে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিউবো বিভাগের লোকজন মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।














