মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয় : বাংলাদেশে এর কী প্রভাব পড়তে পারে?

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ৬৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ৬৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৬ মে) :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়েছে। এই ফলাফল নিয়ে বাংলাদেশের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন বাংলাদেশের বিশ্লেষকেরা।

তারা বলছেন, মাঠের রাজনীতির ভাষা নয়, দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক হয় সরকারের নীতি অনুযায়ী।

তাদের মতে, বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হতে পারে। আর স্থানীয়ভাবেও বাংলাদেশবিরোধী কিছু তৎপরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সীমান্তে।

এবারের নির্বাচনে বিজেপির ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারকে বেশ কাজে লাগিয়েছে। মুসলিমবিরোধী প্রচারও ছিল যথেষ্ট।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, “নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচার ভিন্ন জিনিস। কিন্তু সরকারকে মাঝপথ দিয়ে চলতে হয়, মধ্যপন্থী হতে হয়। সেখানে উগ্রতার জায়গা খুব বেশি নেই। কারণ উগ্র হতে গেলেই নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।

আইনশৃঙ্খলার ক্ষতি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হবে, কর্মসংস্থানের ক্ষতি হবে। তাই মমতা বলুন আর বিজেপি বলুন যারাই ক্ষমতায় থাকুক তারা এটা করতে চাইবে না বলেই আমার মনে হয়।”

দুই দেশের সম্পর্ক একটি নতুন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক একটা অ্যাডজাস্টমেন্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি, রাজ্য সরকারেও বিজেপি।

আর কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে রাজ্য সরকারের খুব বেশি কিছু করার নেই। আমি সতর্কভাবে আশাবাদী হতে চাই যে, ভারত সরকার গত দুই বছরে বুঝেছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো থাকবে না। বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায়।

আমরা সেই ভিত্তিতেই এগিয়ে যেতে চাই। তবে যদি পুশ-ইন করা, সীমান্তে গোলমাল করা বা কোনো কারণে যদি বাংলাদেশ বুঝতে পারে যে তারা পশ্চিমবঙ্গকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তাহলে তো সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। এতে যে শুধু আমাদের ক্ষতি হবে তা নয়, তাদেরও ক্ষতি হবে।”

বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। মোদী সরকার এই চুক্তি করতে সম্মত হলেও মমতার রাজ্য সরকার এই চুক্তিতে সম্মত ছিল না বলেই করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য। এখন রাজ্যেও বিজেপি সরকার আসছে। তাহলে কি চুক্তি এবার হতে পারে?

এই প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, “তখন ওটা একটা রাজনৈতিক বাতাবরণের কারণেই ওই রকম হয়েছে। তবে এখন দুই দেশ আবার আলোচনা শুরু করতে পারে।”

আরেক সাবেক রষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, “বাংলাদেশে আগের সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি যেখানে থেমে ছিল সেখান থেকে আবার শুরু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না।”

তিনি বলেন, “আসলে একটা কারণে তো চুক্তি আটকে ছিল না। আগে যেহেতু একটা অজুহাত ছিল যে মমতা সরকার এই চুক্তি চায় না, এখন সেই অজুহাত যেহেতু নেই, তাই আমরা তো চুক্তির আশা করতে পারি। আশা করতে তো দোষ নেই।

এখন তো দুই দেশকে কথাবার্তা শুরু করতে হবে। আগে তো কথা হয়েছে। তবে আগের সরকার যেখানে কথা শেষ করেছিল সেখান থেকে শুরু করা যাবে বলে মনে হয় না। নতুন করে কথা শুরু করতে হবে।”

আশঙ্কা প্রকাশ করে মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় দুই দেশের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তবে নির্বাচনের সময় যে প্রচারণা দেখা গেছে তার প্রতিফলন এখন যদি পশ্চিমবঙ্গে পড়ে, কোনো সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি হয়, কোনো গোলযোগ হয়, তার প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তে এবং বাংলাদেশে পড়বে।”

তবে মুন্সি ফয়েজ আহমেদও মনে করেন, “নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য রাজনৈতিক প্রচার আর সম্পর্কের বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরো স্বার্থের বিষয় আছে। কেউই চাইবে না সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

আর কেন্দ্রীয় সরকারের তো একটা নীতি আছে। সেই নীতির বাইরে তো রাজ্য যেতে পারবে না। এখন দুই দেশের উচিত হবে সীমান্ত, পানি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব বিষয় আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।”

তিনি বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে অতি সতর্কতার কারণে আমরা যেন আগাম কোনো ব্যবস্থা বা উদ্যোগ না নেই। সেটা ঠিক হবে না।”

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ঢাকায় সাংবাদিকদের মঙ্গলবার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে পুশ ইনের ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেবে ভারত।”

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর