রোতাব চৌধূরী :: কক্সবাজার জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এর আওতায় জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় (কুমিল্লা) মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, পুকুর ও খামারগুলিতে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর মৎস্য চাষের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
এছাড়া এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ধারনা যাচাই করে সম্ভবনাগুলো নিয়ে আগামীর প্রকল্পগুলো আরো সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব হবে।
কক্সবাজারে কোরাল, চিংড়ি, কাঁকড়া, সী-উইডসহ বিভিন্ন জাতের মাছ উৎপাদনে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য সেক্টরে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা,মোঃ নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মশিউর রহমান।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর সুজয় পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এতে বিএফআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক,চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ অঞ্চল, কক্সবাজারের উপ পরিচালক অধীর চন্দ্র দাস বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত বিভিন্ন সেক্টরের অংশীজনেরা তাদের স্ব স্ব মতামত তুলে ধরেন।
এসময় বিভিন্ন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, হ্যাচারী মালিক,চিংড়ি চাষী,মৎস্য খামারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মশিউর রহমান প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩১ টি খামারে নিবিড় মাছ চাষের জন্য IoT based যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করণ,প্রদর্শনী খামারসমূহে উৎপাদনশীলতা হেক্টর প্রতি ৭.৫ মে. টন হতে ৪৭ মে. টনে উন্নত করণ এবং প্রকল্প এলাকায় মাছের উৎপাদন ৩০% বৃদ্ধি করণ,২৭ টি খামারে প্রশিক্ষণ সুবিধাদিসহ অফিস ভবন ও ২৮ টি লেবার-শেড নির্মাণ করণ,০২টি খাবারে উন্নত কৌলিতানিক গুণসম্পন্ন মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও জীন ব্যাংক স্থাপন এবং ২০টি খামারে ক্রায়োপ্রিজারভেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পোনা উৎপাদন,৩২টি খামারে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ০.৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করণ,২৫৪০ জন মৎস্য খামার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী, উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি হ্যাচারি সংশ্লিষ্ট জনবলকে নিবিড় মৎস্য চাষসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
এতে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তাসহ প্রায় ৩০০০ জন প্রত্যক্ষভাবে প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবেন। যার ফলে উন্নত ও আধুনিক মৎস্যচাষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন ব্যবস্থা টেকসই করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নতকরণ,প্রদর্শনী পুকুর,আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুকুরসমূহের ডাইক ও বটম দীর্ঘস্থায়ীভাবে নির্মাণ,খননকৃত সকল খামারের পাড়সমূহ ও পুকুরের তলা রোলারের মাধ্যমে মেকানিক্যাল কম্প্যাকশনের মাধ্যমে দৃঢ়করণ (স্ট্যাবিলাইজেশন) করা,খামারে উত্তম পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে কালভার্ট ও পানি সরবরাহ সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হলে ৩১ টি সরকারি মৎস্য খামার আধুনিকীকৃত উন্নয়নকৃত,২টি খামারে আধুনিক ক্রায়োজেনিক জীন ব্যাংক স্থাপন ও ২০টি খামারে ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন,৩১ টি IoT বেইজড বটমলাইনার মাছচাষ প্রযুক্তির প্রদর্শনী স্থাপিত,৪৬০ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী ও ২০৮০ জন উদ্যেক্তা ও মাছচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান,৩১ টি খামারের ৩১০০ শতাংশ পুকুরে মাছের বাৎসরিক উৎপাদন ৯৪.১২৫ মে.টন হতে ৫৮৯.৮৫ মে.টনে উন্নতীকরণ সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মশিউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাজমুল হুদা নিরাপদ মাছ ও শুটকি উৎপাদন,চিংড়ি চাষে আধুনিক প্রযুক্তি,সী-উইড চাষসহ মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।














