কক্সবাংলা ডটকম (১৭ জুন) :: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয়! কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল লিওনেল স্কালোনির দল।
৩৮ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে কেরিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করলেন লিওনেল মেসি।
মেসির নিন্দুকরা বলেন মেসি নাকি মাঠে সেভাবে ছোটাছুটি করেন না, কারণ মেসি-র সেই স্কিলটা আছে যেখানে লিও মেসি জানেন ঠিক কোথায় কখন গিয়ে হাজির থাকলে তাঁর কাছে নেটটা ওপেন থাকবে আর বিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে তাদের নাস্তানাবুদ করে দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার৷
বুধবার সকালে ফের একবার ম্যাজিক হল৷ আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে এদিন ৩-০ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা৷ বলা ভাল জিতলেন মেসি, গোল করলেন, হ্যাটট্রিক করলেন, সব একাই করে নিল নীল-সাদা জার্সি গায়ে৷
হাতের কাজ সরিয়ে এই তিনটি গোল দেখে নেওয়া ফুটবলপ্রেমীদের অবশ্য কর্তব্য, না হলে বলবেন জীবনে একটা বড় মিস রয়ে গেল৷
এর থেকে পারফেক্ট স্টার্ট আর হয়তো হতে পারে না। একজন আর্জেন্তিনা সমর্থক তাঁর প্রিয় দলের কাছে ঠিক যেটা আশা করতে পারেন সেটাই হয়েছে।
লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অঘটন ঘটেছিল সৌদি আরবের কাছে হেরে, কিন্তু এ বার আর সেসব ঝামেলা নেই।
সরাসরি ৩-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপ শুরু। সঙ্গে পাওনা, মেসির হ্যাটট্রিক এবং একাধিক রেকর্ড।

এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্তিনার জার্সিতে মেসির ২০০তম ম্যাচ। আর প্রথম গোলটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ১১৮তম এবং বিশ্বকাপে তাঁর ১৪তম গোল।
তিনি ম্যাচ শেষ করলেন জাতীয় দলের হয়ে ১২০ এবং বিশ্বকাপে ১৬তম গোল করে।
চলতি বিশ্বকাপে মেসি আর একটা গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের মালিক হবেন। যদিও তাঁর পিছনেই রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে।
১৭ তারিখ দিনটা (আমেরিকার সময়ে ১৬ জুন) রেকর্ডবুকে ওঠানামার। যেমন রাত সাড়ে ১২টায় নেমেছিল ফ্রান্স ও সেনেগাল।
যেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই জোড়া গোল করে তিনি ১৪ তম গোল করে ফেলেন। সেই সময় মেসির গোলের সংখ্যা ছিল ১৩।
এর পর ভোরে যখন মেসি নামলেন তখন তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যুগ্মভাবে শীর্ষে বসে গেলেন। এতদিন এই তালিকায় ছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসে।
ফলে মেসি আর এক গোল করলেই যেমন টপকে যাবেন ক্লোসেকে তেমনই তিনি চাপেও থাকবেন।
কারণ তাঁর পিছনেই এমবাপে। আর দু’জনের মধ্যে গোলের ব্যবধান মাত্র ২।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক কারা
- লিওনেল মেসি ১৬ (আর্জেন্তিনা)
- মিরোস্লাভ ক্লোসে ১৬ (জার্মানি)
- রোনাল্দো নাজ়ারিও ১৫ (ব্রাজ়িল)
- কিলিয়ান এমবাপে ১৪ (ফ্রান্স)
- গার্ড মুলার ১৪ (জার্মানি)
এদের মধ্যে মেসি ও এমবাপে বাদে বাকি সবাই খেলা ছেড়েছেন।
আলজিরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্তাইন অধিনায়ক। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে তিনি হয়ে গেছেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার। এর আগে রেকর্ডটি ছিল পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনাল্দো।
শুধু তাই নয়, পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিতেও ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ বিশ্বকাপ। পাশাপাশি মেসি হলেন একমাত্র প্লেয়ার যিনি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন। যেহেতু ওচোয়া ও রোনাল্দো এখনও মাঠে নামেননি।
২০০৬ সালের ১৬ জুন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন তরুণ মেসি। ঠিক ২০ বছর পর, একই জুন মাসে, ৩৮ বছর বয়সি মেসি আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ইতিহাস লিখলেন।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান হলো, ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতাদের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। তাঁর সামনে রয়েছেন শুধুমাত্র ক্যামেরুনের রজার মিলা এবং পর্তুগালের পেপে।

আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোলের পর কান্না, কারণ জানালেন মেসি
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। তবে গোলের পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোল করার পরই আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কয়েক সেকেন্ড উল্লাসের পর মাথা নিচু করে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। ম্যাচ শেষে সেই কান্নার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মেসি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। তবে গোলের পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
মেসি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তবে ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন ছিল। কঠিন সময় কাটিয়েছি। জটিল সময় কাটিয়েছি। সেগুলোই মনে পড়ছিল। ফুটবলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’
তবে সেই কঠিন সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি আর্জেন্টাইন তারকা। বরং তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সতীর্থদের প্রতি, যারা কঠিন সময়ে তার পাশে ছিলেন।
মেসি বলেন, ‘আমি গোটা দলের কাছে কৃতজ্ঞ। সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভালো রাখার। ওদের এই সাহায্যের কথা ভুলব না।’
৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটি ছিল বিশ্বকাপ মঞ্চে তার প্রথম হ্যাটট্রিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন তিনি খেলা উপভোগ করছেন এবং দলের সাফল্যের অংশ হতে পেরে আনন্দিত।
মেসির ভাষায়, ‘এখন খেলা উপভোগ করি। এটা কেকের ওপর চেরির মতো বিষয়। দুর্দান্ত একটা দলের হয়ে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। খেলা উপভোগ করছি।’
মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। লিও-কে নিয়ে আর কী বলব। আমি বাক্রুদ্ধ। ও দুর্দান্ত।’














