কক্সবাংলা ডটকম :: মাস দু’য়েক ধরেই ‘হচ্ছে হচ্ছে’ চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হচ্ছিল না। অবশেষে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার কথা জানােলন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীও খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি।
তবে এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি কোনও পক্ষই। ১৯ জুন সুইৎজারল্যান্ডে দুই দেশের শীর্ষ কর্তারা মুখোমুখি বসবেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তাঁরা। তার পরেই খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী।
শনিবারই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ইরানের দিক থেকে তেমন কোনও সাড়া মেলেনি। তখন থেকেই জল্পনা চলছিল। এ দিন মাঝরাতে শান্তিচুক্তি ‘সম্পন্ন’ করার বার্তা দিয়ে গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।
নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হরমুজ় প্রণালী দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছি।’ তবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরে ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করে রেখেছিল আমেরিকান সেনা। সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণাও করেছেন ট্রাম্প।
তাঁর কথায়, ‘আমেরিকান নৌবাহিনীকে এখনই অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলাম।’ একই সঙ্গে তেলের বাজারকে স্বস্তি দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘বিশ্বের সব জাহাজকে বলছি, আবার ইঞ্জিন চালু করো। তেল বয়ে যেতে দাও।’
ট্রাম্পের এই পোস্টের কিছুক্ষণ আগে নিজের X হ্যান্ডলে চুক্তি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ। তিনি লেখেন, ‘ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষই লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ী ভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা করেছে।
’ আগামী ১৯ জুন সুইজ়ারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শরিফ এবং ট্রাম্পের ঘোষণা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইরান। চুক্তির কোনও শর্তই প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে চুক্তি ঠিক কতটা চূড়ান্ত, সেই নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। বিশ্বের সমস্ত জাহাজের জন্য হরমুজ় প্রণালী ঠিক কবে থেকে খুলে দেওয়া হবে তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।
অবশ্য ট্রাম্প ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ইরানের সহযোগিতা ছাড়া তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। ফলে এই নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তিনটি শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। তার পর থেকেই পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় পশ্চিম এশিয়ায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ় প্রণালীও। তেলে দাম বাড়তে শুরু করে হু হু করে।
এর পরে গত এপ্রিলে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চোরাগোপ্তা আক্রমণ চলছিল। লেবাননে হামলা চালানো বন্ধ করেনি ইজ়রায়েলও। ফলে বাস্তবে যুদ্ধ থামল কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
এক ধাক্কায় তেলের দাম কমল ৪ শতাংশ
শান্তিচুক্তি ঘোষণা করে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, শুক্রবার চুক্তি সই করবে দুই দেশ। তার পরেই খুলে দেওয়া হবে হরমুজ় প্রণালী। সেই ঘোষণার পরেই সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় কমেছে ৪ শতাংশ। শেয়ার বাজারেও বড়সড় উত্থান দেখা গিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষণার পরে ব্রেন্ট ক্রুড (আন্তর্জাতিক বাজার) ৪ শতাংশ কমেছে। ব্যারেল প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩.৭৭ ডলার। আমেরিকার বাজারেও একই ছবি। ইউএস ক্রুড ফিচার্সের দাম কমেছে এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ। ব্যারেল প্রতি দাম নেমে এসেছে ৮০.৮৩ ডলারে। আমন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণেই দাম কমেছে।
শনিবার শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বড় ঘোষণা আসতে চলেছে। সেই মতো এ দিন মাঝরাতে ট্রুথ সোশ্যালে ‘শান্তি চুক্তি’ করার কথা জানান তিনি। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। হরমুজ় প্রণালীও খুলে যাচ্ছে, কোনও জাহাজেই আর টোল নেওয়া হবে না।’ ইরানের বন্দর থেকে আমেরিকান নৌবাহিনীকে অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গোটা বিশ্বকে বার্তা দেন ট্রাম্প, ‘সব জাহাজকে বলছি, ইঞ্জিন চালু করো। তেল বয়ে যেতে দাও।’
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হয়। তাই এই জলপথে কোনও রকম অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধের কারণে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল হরমুজ় প্রণালী। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল তেলের দাম। এ বার তাতে কিছুটা হলেও লাগাম পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
শুধু তেলের বাজার নয়, বিশ্ব বেশ কয়েকটি দেশের শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গিয়েছে। আমেরিকার স্টক ফিউচার্স অর্থাৎ ভবিষ্যতে শেয়ারের সম্ভাব্য দামের ইঙ্গিত দেওয়া সূচকগুলো হু হু করে বেড়েছে। ডাও জোন্স প্রায় ০.৭ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি প্রায় ০.৯ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ১.৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে এশিয়ার বাজারেও। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক এক লাফে ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক বেড়েছে প্রায় ৩.৬ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার শেয়ার বাজার সূচকও প্রায় ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।














