বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রজন্মের সুপারস্টার সংকটে বলিউড

🗓 শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

👁️ ২৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

👁️ ২৮ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প বলিউড বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—‘উত্তরসূরি সংকট’। দর্শক-জরিপ ও মিডিয়া বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ওরাম্যাক্স মিডিয়ার সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘স্টারস ইন্ডিয়া লাভস’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলিউডের তারকা নির্ভর কাঠামোর এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকারা ক্রমেই বয়সের ভারে প্রবীণ হয়ে উঠছেন, অথচ তাদের জায়গা নেওয়ার মতো নতুন প্রজন্মের সুপারস্টার এখনো তৈরি হয়নি।

ওরাম্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে হিন্দি চলচ্চিত্রের শীর্ষ পাঁচ পুরুষ তারকার গড় বয়স ছিল ৪৭ বছর। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ বছরে। শুধু বয়স বৃদ্ধিই নয়, শীর্ষ তারকাদের তালিকায় নতুন মুখের অনুপস্থিতিও বিশ্লেষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাঁচ পুরুষ তারকা হলেন শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, হৃতিক রোশন ও রণবীর কাপুর। অন্যদিকে ২০১৯ সালের তালিকায় ছিলেন অক্ষয় কুমার, সালমান খান, রণবীর সিং, হৃতিক রোশন ও শাহরুখ খান। অর্থাৎ ছয় বছরে শীর্ষ তালিকায় মাত্র একজনের পরিবর্তন ঘটেছে। এটি প্রমাণ করে যে বলিউডের তারকাখ্যাতির শীর্ষ স্তর প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বলিউডের বক্স অফিস আয়ের বড় অংশই আসে তরুণ দর্শকদের কাছ থেকে। ওরাম্যাক্সের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিন্দি সিনেমার মোট বক্স অফিস আয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ আসে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী দর্শকদের কাছ থেকে। কিন্তু এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমবয়সী বা তাদের প্রতিনিধিত্বকারী নতুন তারকার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো তারকাকেন্দ্রিক শিল্প দীর্ঘ সময় একই মুখের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। বর্তমানের শীর্ষ তারকারা আরও বয়সী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই একটি শূন্যতা তৈরি হবে। সেই সময়ের আগেই যদি নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতাদের প্রতিষ্ঠিত করা না যায়, তাহলে বলিউডের বাজার, দর্শকসংযোগ এবং ব্যবসায়িক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে অ্যাকশন, স্পাই-থ্রিলার ও বৃহৎ বাজেটের ‘ইভেন্ট সিনেমা’র প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। এর ফলে রোমান্টিক চলচ্চিত্র, রোমান্টিক কমেডি (রোমকম) এবং তরুণদের জীবনসংগ্রাম ও বেড়ে ওঠার গল্পভিত্তিক সিনেমার সংখ্যা কমে গেছে। অথচ অতীতে শাহরুখ খান, আমির খান কিংবা হৃতিক রোশনের মতো তারকারা এসব ঘরানার মাধ্যমেই দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন।

ওরাম্যাক্সের মতে, সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার জনপ্রিয়তায় নয়; বরং এমন তরুণ তারকার অভাব, যারা এসব গল্পকে আবারও বড় পর্দার আকর্ষণীয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে রূপ দিতে পারবেন। একটি সুস্থ চলচ্চিত্র শিল্পে যেমন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত তারকার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি নিয়মিতভাবে নতুন প্রতিভা উঠে আসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই শিল্পটি প্রাণবন্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং ভবিষ্যতমুখী থাকে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী তারকা তৈরি করা সম্ভব নয়। নতুন সুপারস্টার গড়ে তুলতে প্রয়োজন শক্তিশালী গল্প, উপযুক্ত চরিত্র নির্বাচন, ধারাবাহিক অভিনয় দক্ষতা, সুচিন্তিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং দর্শকের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ তৈরির সক্ষমতা।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রণবীর কাপুর, কার্তিক আরিয়ান, ভিকি কৌশল, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা কিংবা আয়ুষ্মান খুরানার মতো অভিনেতারা নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে বিবেচিত হলেও, তারা এখনো শাহরুখ-সালমান-অক্ষয়দের মতো সর্বভারতীয় প্রভাব ও তারকাখ্যাতির স্তরে পৌঁছাতে পারেননি।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ মিডিয়া গবেষণা ও দর্শক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ওরাম্যাক্স মিডিয়া নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্র, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন এবং বিনোদন শিল্পের জনপ্রিয়তা, দর্শক প্রবণতা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করে। তাদের ‘স্টারস ইন্ডিয়া লাভস’ প্রতিবেদনটি ভারতীয় তারকাদের জনপ্রিয়তা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সব মিলিয়ে, বলিউডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তি তারকাদের পর কে নেতৃত্ব দেবে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পকে? সেই উত্তর খুঁজে বের করাই আগামী দশকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলিউডের জন্য।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর