বুধবার ৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনের মসনদে এ বার ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম!

🗓 সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় রদবদল। সোমবার, প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার।

ফলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের (Andy Burnham) পদার্পণের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন লেবার পার্টির এই ৫৬ বছর বয়সি এই নেতা।

জনপ্রিয়তায় নিরিখে তিনিই এখন ব্রিটেনের সবথেকে বড় নেতা বলে মনে করা হচ্ছে, আর স্টারমারের পরে শীর্ষ পদের প্রধান দাবিদারও তিনিই।

জনসাধারণের পাশাপাশি লেবার পার্টির সাংসদদের কাছেও তিনিই সবচেয়ে পছন্দের। কিন্তু কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ব্রিটেনের রাজনীতিতে যিনি পরিচিত ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ হিসেবে?

কী ভাবে মসনদের দৌড়ে বার্নহ্যাম?

ব্রিটেনে এখন ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে অতিডানপন্থী দল, ‘রিফর্ম ইউকে’ (Reform UK)-র। মেকারফিল্ডের হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনে তাদেরই গোহারা হারিয়েছেন বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এই উপনির্বাচনে লড়ে, ৫৪.৮% ভোট পেয়েছেন তিনি!

এই বিপুল জয়ের পরেই তিনি লেবার পার্টির নেতা এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে চলে আসেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্টারমারের নেতৃত্বে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের এবং স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

সাম্প্রতিক অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাতেই জনপ্রিয়তায় এক নম্বরে থেকেছে রিফর্ম পার্টি, লেবাররা দ্বিতীয় স্থানে। এই পরিস্থিতিতে দলকে ফের আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বার্নহ্যামই আদর্শ ব্যক্তি বলে মনে করছে লেবাররা।

এ দিন কিয়ার স্টারমার ইস্তফা দেওয়ার পরে সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘কিয়ার আমাদের দেশকে দারুণ পরিষেবা দিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।’

কে এই ‘কিং অফ দ্য নর্থ’?

সাধারণত, ব্রিটেনের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে লন্ডন। লন্ডনের তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল এলিট’ অর্থাৎ, রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির মানুষই বসেন শীর্ষপদে। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই শ্রেণির বাইরের এক নেতা।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ হিসেবে। লন্ডন-কেন্দ্রিক সরকারি নীতির বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের অধিকার নিয়ে তীব্র লড়াইয়ের জন্যই তাঁর অনুগামীরা তাঁর এই নাম দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ‘সফট-লেফট’ অর্থাৎ, বামপন্থী নরম ধারার রাজনীতিক।

সাধারণ ঘরের ছেলে

একেবারে সাধারণ শ্রমজীবী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর বাবা, রয় বার্নহ্যাম ছিলেন ‘ব্রিটিশ টেলিকম’-এর একজন টেলিফোন ইঞ্জিনিয়ার। আর মা আইলিন ছিলেন মেডিক্যাল রিসেপশনিস্ট।

কোনও শহরে নয়, ম্যানচেস্টার এবং লিভারপুলের মাঝে অবস্থিত কালচেথ নামে এক ছোট্ট গ্রামে বড় হয়েছেন তিনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বার্নহ্যাম পরিবারে তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক কেরিয়ার

২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লেই (Leigh)-এর সাংসদ ছিলেন বার্নহ্যাম। এর আগে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৭ সালে বিপুল ভোটে জিতে তিনি ‘গ্রেটার ম্যাঞ্চেস্টার কম্বাইন্ড অথরিটি’-র প্রথম ‘মেট্রো মেয়র’ হন। এর পরে ২০২১ এবং ২০২৪ সালে তিনি ওই পদেই পুনর্নির্বাচিত হন।

মেয়র থাকাকালীন ম্যানচেস্টারের বাস নেটওয়ার্ককে বেসরকারি হাত থেকে মুক্ত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি। যা মেয়র হিসেবে তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য।

এ ছাড়াও ‘আ বেড এভরি নাইট’ (A Bed Every Night) নামে এক উদ্যোগ চালু করেছেন তিনি। নিজের বেতনের ১৫ শতাংশ তিনি এই প্রকল্পের তহবিলে দান করেছিলেন। এই উদ্যোগ তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক অবস্থান

জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও বার্নহ্যামের কিছু নিজস্ব দৃঢ় অবস্থান রয়েছে।

ব্রেক্সিট-বিরোধী

তিনি ‘ব্রেক্সিট’ অর্থাৎ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার কট্টর সমালোচক। গত বছর এক সম্মেলনে তিনি ব্রেক্সিটের কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে লেবার পার্টির নীরবতার তীব্র নিন্দা করেছিলেন।

ন্যাটোর পক্ষে

ন্যাটো (NATO) জোটের দৃঢ় সমর্থক তিনি। তিনি এতটাই ন্যাটো-পন্থী যে, একসময়ে বলেছিলেন, যদি জেরেমি করবিনের সরকার ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসে, তবে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেবেন।

ইজ়রায়েল-প্যালেস্তাইন

গাজ়া যুদ্ধের সময়ে লেবার পার্টির বৃহত্তর অংশ ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু, ২০২৩ সালের অক্টোবরে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এবং স্কটল্যান্ডের লেবার নেতা আনাস সারওয়ারের সঙ্গে মিলে গাজ়ায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানাতে দেখা গিয়েছিল বার্নহ্যামকে। তিনি প্যালেস্তাইনে ইজ়রায়েলের বেআইনি বসতি স্থাপন এবং ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক।

২০১২ সালে তিনি ‘লেবার ফ্রেন্ডস অফ প্যালেস্তাইন’-এর সঙ্গে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সফরে গিয়েছিলেন। তবে, তিনি ইজ়রায়েলের কট্টর বিরোধী, এমন ভাবলেও ভুল হবে। ২০১৫ সাল থেকে ‘লেবার ফ্রেন্ডস অফ ইজ়রায়েল’-এরও সদস্য বার্নহ্যাম। ইজ়রায়েল বয়কট করার বিষয়ে লেবারদের প্রচার, তাঁর মতে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’।

ইরাক যুদ্ধ

একসময়ে ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিলেও, পরে তিনি এর পরিণতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ (Independent)-এ লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেছিলেন, ‘আমেরিকা-ব্রিটেনের পদক্ষেপের ফলে নিরীহ নাগরিকদের চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এই অনুভূতিই বহু মানুষকে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ৯/১১-র জবাবে আমেরিকার পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটিত করা। তবে ফল হয়েছে ঠিক তার উল্টো।’

ইতিমধ্যেই সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নিতে ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনের পথে রওনা হয়েছেন বার্নহ্যাম। তবে শুধু সাংসদ পদ নয়, লন্ডনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় চেয়ার। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বিপুল জয় এবং স্টারমারের পদ ছাড়ার পরে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’-এর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়াটা প্রায় পাকা। গত ১০ বছরে ছয়বার প্রধানমন্ত্রী বদলের পরে, তিনি কি ব্রিটেনকে থিতু করতে পারবেন? দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটানো এবং ডানপন্থী ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে কী ভাবে তিনি দল ও দেশের নেতৃত্ব দেন, এখন সেটাই দেখার।

এই বিভাগ এর আরো খবর

‘রামায়ণ’ মুক্তি পাচ্ছে নভেম্বরে

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর