কক্সবাংলা ডটকম(৩০ জুন) :: প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরোল ব্রাজিল।
ফুটবল বিশ্ব আরও একবার দেখল নকআউট পর্বে পিছিয়ে থাকলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে পাঁচ বারের বিশ্বজয়ীরা।
দীর্ঘ বছর পর বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়ে জয় ছিনিয়ে নিল সাম্বা ব্রিগেড।
প্রথমার্ধ যদি জাপানের থাকে, দ্বিতীয়ার্ধে গোদা বাংলায় জাপানের ডিফেন্সকে ছিঁড়ে খেল কার্লো আনচেলত্তির ছেলেরা।
ভিনিসিয়াস জুমিয়র, রায়ান, এন্ড্রিকরা দেখাল সেই সাম্বার ছন্দ। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ব্রাজিলের পক্ষে খেলার ফল ২-১।
ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলদাতারা হলেন ক্যাসিমেরো ও মার্টিনেল্লি। ইনজুরি টাইমের একেবার শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে স্বপ্নভঙ্গ হল সূর্যোদয়ের দেশের।
ক্লাব ফুটবলে সফল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি আন্তর্জাতিক স্তরে কতটা সফল হবেন সেটা ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাও আবার ব্রাজ়িলের মতো দলের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে। তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল।
নেইমারের মতো তারকাকে না পেলেও তিনি যে টিম ব্রাজ়িলকে তৈরি করেছেন তার প্রমাণ মিলেছে গ্রুপস্তরে।
একটিও ম্যাচে না হেরে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করে সেলেকাওরা। এ বার শেষ ৩২-এর ম্যাচে আরও লড়াই দেখা গেল।
জাপানের মতো লড়াকু দলের বিরুদ্ধে ২৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতল তারা। সঙ্গে চলে গেল শেষ ১৬-তে।
🚨🌎 GABRIEL MARTINELLI HAS WON IT IN THE 95TH MINUTE FOR BRAZIL! 🤯🤯
Brazil 2-1 Japan.pic.twitter.com/JUQ8WZsa2v
— Tekkers Foot (@tekkersfoot) June 29, 2026
ম্যাচে ব্রাজ়িল স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে থেকে খেলা শুরু করে। ধারে ও ভারে জাপানের থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকার ফল দেখা গিয়েছে সেলেকাওদের খেলায়। যার ফল, ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ব্রাজ়িল। যদিও গিমারায়েসের নিচু শট আটকে দেন জাপান ডিফেন্ডাররা। এরপর চাপ তৈরি করতে থাকেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রও।
শুরুটা যেমন করেছিল সেই পেসটা তারা ধরে রাখে। ১৪ মিনিটে কুনহার একটি শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি নিচু রেখেছিলেন শটটা। ১৫ মিনিটে কাসোমিরোর একটি ফাউলের জন্য ব্রাজ়িলের ডি বক্সের সামনে ফ্রি কিক পায় জাপান। কাসেমিরো হলুদ কার্ড দেখলেও সেই ফ্রি কিক থেকে বিপদ হয়নি।
শুরু থেকে ব্রাজ়িলের চাপের মধ্যে জাপানের গোল। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে রাশ ব্রাজ়িল রাখলেও খেলার বিপরীতে গিয়ে বাজিমাত করে জাপান। ২৯ মিনিটে দানিলোর বাড়ানোর একটি পাস কেড়ে নিয়ে মাঝমাঠ দিয়ে উপরে ওঠেন কাইশু সানো। তাঁকে বল নিয়ে উঠতে দেখে কাসেমিরো তাড়া করেন। কিন্তু সানোর সঙ্গে আর দৌড়ে পারেননি। দুর্দান্ত ড্রিবল করে তিনি বল নিয়ে বেরিয়ে যান।
৩০ গজ দৌড়ে বক্সের সামনে থেকে বাঁক খাওয়ানো নিচু শট নিয়ে গোল করে দেন সানো। আলিসন বেকার বলের টার্ন বুঝতে পারেননি। এটা ছিল সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পেলেন বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে। ফলে এই গোলটা তাঁর কাছে স্পেশাল। তাঁর গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

এই গোলের নেপথ্যে যতটা না সানোর কৃতিত্ব, তার থেকেও বেশি ভুল ছিল ব্রাজ়িলের। নিজেদের অর্ধের শুধু বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোই নয়, বিপক্ষকে আটকাতে পারেনি ব্রাজ়িলের রক্ষণ। ড্রিবল করে বেরিয়ে যান সানো।
০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর ব্রাজ়িল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদল আসে। প্রথমার্ধে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করা পাকুয়েতাকে তুলে নামানো হয় এন্দ্রিককে।
এর পর যেন অন্য ব্রাজ়িলকে দেখা যায়। ৫২ মিনিটে প্রথম আক্রমণ, গিমারায়েসের দারুণ একটি হেড আটকে দেন জাপানের গোলকিপার সুজ়ুকি। এর ঠিক ১ মিনিট পর গোললাইন সেভ করেন জাপান।
কাসেমিরোর হেড কোনওরকমে গোললাইন থেকে বাঁচান জাপানের ডিফেন্ডাররা। তবে ব্রাজ়িলের এই মেমোন্টাম নষ্ট হয়নি। ৫৬ মিনিটে আসে গোল।
গাব্রিয়েল মাগায়েয়াসের থেকে ক্রস নিয়ে কাসেমিরো হেডে গোল করেন। এটা ছিল বিশ্বকাপে তাঁর দ্বিতীয় ও কেরিয়ারের ৯০ তম গোল।
এর পর ব্রাজ়িল কিছুটা হলেও ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয়। তবে বলের দখল রেখেছিল নিজেদের কাছে। ৫৬ মিনিটে সুযোগও এসেছিল।
কিন্তু ভিনিসিয়াসের শট আটকে দেন জাপানের গোলকিপার। তবে এর পর থেকে ব্রাজ়িলের আক্রমণের ঝাঁঝ যেন কমতে থাকে।
৬৫ থেকে ৮০ মিনিটের মধ্যে ব্রাজ়িল যেন অন্য খেলা খেলছিল। কোনও কার্যকরি আক্রমণ করতে পারেনি তারা। জাপান দলের প্রায় সবাই নেমে রক্ষণ করেন।

তবে ম্যাচ শেষের আগে যোগ করা সময়ে ব্রাজ়িল একের পর এক আক্রমণ শুরু করে। সেখান থেকেই আসে গোল।
রায়ান বল পেয়ে তা বাড়ান গিমায়ায়েসকে। তিনি থ্রু বাড়ান মার্তিনেল্লিকে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে বল জালে জড়ান মার্তিনেল্লি।
এর পর আর সুযোগ ছিল না জাপানের সামনে কামব্যাক করার। তবে ৯০ মিনিটের পর ৬ মিনিট সংযুক্তি সময় দিলেও রেফারি খেলান মোট ১১ মিনিট। কিন্তু তাতে যদিও বিপদ হয়নি।
ব্রাজ়িল তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ৬ জুলাই সোমবার রাত দেড়টার সময়। আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে ম্যাচে যেই দল জিতবে তারা খেলবে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে।
ব্রাজ়িল: আলিসন, দানিলো, মার্কুইনহোস, গাব্রিয়েল মাগায়েয়াস, দগলাস সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো (ফ্যাবিনো), লুকাস পাকুয়েতা (এন্দ্রিক); রায়ান, মাথিউস কুনহা (গ্যাব্রিয়াল মার্তিনেল্লি), ভিনিসিয়াস জুনিয়র
ফের চোট? কেন জাপান ম্যাচে নামলেন না নেইমার? মুখ খুললেন ব্রাজ়িল কোচ

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজ়িল যখন পিছিয়ে পড়ে তখন সকলের নজর ছিল ডাগআউটের দিকে। প্রশ্ন ছিল একটাই কখন মাঠে নামবেন নেইমার? তিনি বেঞ্চে বসে দলের খেলা দেখেছেন, স্ট্রেচিং করে না গরম করলেও শেষ পর্যন্ত বেঞ্চেই বসে পুরো ম্যাচ কাটাতে হয়েছে ব্রাজ়িলের তারকা ফুটবলারকে। কিন্তু কেন? তা হলে কি পুরো ফিট নন তিনি। জাপানের বিরুদ্ধে জয়ের পর নেইমারকে না খেলানোর কারণ জানিয়েছেন ব্রাজ়িলের প্রধান কোচ কার্লো আন্সেলত্তি।
সোমবার রাতে হিউস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে আন্সেলত্তি জানান, শুরু থেকেই অতিরিক্ত সময়ের কথা মাথায় রেখে নেইমারকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর মাঠে নামানোর প্রয়োজন হয়নি।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ের জন্য আমরা নেইমারকে প্রস্তুত রেখেছিলাম। এ নিয়ে ওর সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল। যদি নির্ধারিত সময়ে আমরা সমতায় ফিরতে না পারতাম, তাহলে ৬০ কিংবা ৬৫ মিনিটের দিকে ওকে মাঠে নামানো হতো। কিন্তু সমতা ফেরানোর পর দলের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করিনি। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল।’
হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানের গোলে চাপে পড়ে ব্রাজ়িল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দাপট বেশি ছিল ব্রাজ়িলের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেকাওরা। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল করে সমতা ফেরান। এরপর ম্যাচ গড়ায় নাটকীয় পরিণতির দিকে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জয়সূচক গোল করে ব্রাজ়িলকে ২-১ ব্যবধানে স্মরণীয় জয় এনে দেন। দলের এই দুটো গোল ও ম্যাচের শেষে সেলিব্রেশন সবেতেই ছিলেন নেইমার।
ম্যাচে নেইমার না খেললেও বেঞ্চের শক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট আন্সেলত্তি। তাঁর মতে, বর্তমান ব্রাজ়িল দলে একাধিক মানসম্পন্ন বিকল্প থাকাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই কিছুটা দুশ্চিন্তার খবরও রয়েছে ব্রাজ়িল শিবিরে। ম্যাচ চলাকালীন চোট পেয়েছেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা। আন্সেলত্তি জানিয়েছেন, তাদের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা মিলবে।














