শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শেষ হতেই বিমান হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষকৃত্যের একদিনের মধ্যেই ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি।

শুক্রবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিস্ফোরণের পরে আমেরিকার যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকায় উড়তে দেখা যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কথা ঘোষণা করার পরে টানা দ্বিতীয় দিন ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে বিমান হামলা চালায় আমেরিকান সেনা।

দক্ষিণ ইরানের বুশেহর-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সামরিক পরিকাঠামো, যাতে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়।

দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাতের পরে শান্তি চুক্তি সইয়ের পরে খামেনেইকে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজ়া মাজার চত্বরে সমাহিত করা হয়।

তাঁর শেষকৃত্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। তার পরেই ফের হামলা-পাল্টা হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ল জটিলতা।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণগুলি বুশেহরের একটি নৌ-সামরিক ঘাঁটি এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘটে।

বিস্ফোরণের প্রকৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

যদিও এই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত, বাহারিন ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ হামলাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতায় প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলায় কোনও হতাহতের খবর নেই।

একই সঙ্গে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, নতুন করে কোনও বিমান হামলা চালানো হয়নি এবং কূটনৈতিক স্তরে ইরানের সঙ্গে ‘টেকনিক্যাল আলোচনা’ এখনও চলছে।

সূত্রের খবর, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

একইসঙ্গে ইজ়রায়েল স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজন হলে তারা ফের ইরানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত।

জর্ডনের আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

blast near Bushehr Nuclear Plant

আবারও উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। তৃতীয় দিনেও চলল হামলা। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের (Bushehr Nuclear Plant) কাছে শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ। এরই পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকান একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডনের আল-আজ়রাক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে আইআরজিসি (IRGC)-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকার একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার (U.S. command-and-control center) এবং জর্ডনের আল-আজ়রাক বিমানঘাঁটিকে (Al-Azraq Air Base in Jordan) লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা।

ওই হামলায় দু’টি জায়গায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ভিক্টরি বেস-এও হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ইরানের মেহের নিউজ়-এর প্রতিবেদনে।

ইরানের একাধিক জায়গায় আমেরিকান আক্রমণের জবাব দিতেই এই হামলা বলেও দাবি করা হয়েছে। সেখানে হামলা চালানো হলে আমেরিকান ঘাঁটিতে আরও বড় আক্রমণ চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে জর্ডন। তাদের দাবি,ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডনের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। ওই হামলায় সেখানে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

অন্য দিকে, ইরানকে সতর্ক করেছেন ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ়। প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে ইজ়রায়েল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে যদি আবারও ইরানে হামলা চালাতে হয়, তবে তা অতীতের চেয়ে ‘আরও বেশি শক্তি’ প্রয়োগ করে করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

আর এক দিকে, বৃহস্পতিবারও ইরানের ওপর আমলা অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা। মেহর নিউজ় এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর ও এর পার্শ্ববর্তী শহর চোগাদাকের আশপাশের এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বন্দর আব্বাস শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দক্ষিণ ইরানের কোনারাক প্রদেশে তিনটি বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই প্রদেশে একটি কৌশলগত বন্দর রয়েছে।

হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করার পরেই সেখানে হামলা শুরু করে আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা কার্যত ভেঙে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে সংযত না হলে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আমেরিকান সেনা। হামলায় তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান-তেহরান রেল করিডরের কিছু অংশও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরই পাশাপাশি হামলা চলে চাবাহার বন্দর এলাকাতেও।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর