মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিনে মুক্ত ও কারাগার থেকে পালানো ৩৭৯ জঙ্গিকে ঘিরে উদ্বেগ : উগ্রবাদী তৎপরতার শঙ্কা

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ জুলাই) :: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চলতি জুলাই মাসে ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং সিঙ্গাপুরে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাও একই ধরনের আশঙ্কাকে সামনে নিয়ে আসে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত নয়টি জঙ্গি সংগঠনের ৩৭০ সদস্য এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও ৯ জঙ্গির অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ফলে মোট ৩৭৯ জন পলাতক জঙ্গির একটি অংশ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার, ছোট ছোট প্রশিক্ষণ চক্র গড়ে তোলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রাবাড়ীর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেল পলাতক ও জামিনে মুক্তির পর লাপাত্তা জঙ্গিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর একটি বালুর মাঠ থেকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) নামের একটি সংগঠনের প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির। অভিযোগ রয়েছে, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা হতো।

অন্য গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়েজিত। তাঁদের মধ্যে চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর সাবির ও তানিমকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবির ও তানিমের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে দেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদে প্রভাবিত বিভিন্ন কনটেন্ট, শারীরিক প্রশিক্ষণ ও বিস্ফোরণের দৃশ্য প্রচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিস্ফোরণের ভিডিও প্রসঙ্গে সিটিটিসি জানিয়েছে, সেটি কোনো আইইডি বিস্ফোরণ নয়; পটকার উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ‘ম্যাক ইউরি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির পরিচয় ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, “যাত্রাবাড়ীতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”

এদিকে, জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটক দুই বাংলাদেশি সাহেদুল ইসলাম ও রিশাদ তায়ানীকে সম্প্রতি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং উগ্রবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তাঁদের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থায়নের উৎস এবং দেশে কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই মাদ্রাসার পরিচালক আল আমিন শেখ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)-এর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) তদন্ত করছে।

এটিইউ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া এবং পরবর্তীতে লাপাত্তা হওয়া ৩৭০ জনের মধ্যে অনেকে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক ৩৭০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদস্য নিষিদ্ধ জেএমবির—১৮৫ জন। এছাড়া হিযবুত তাহরীরের ৫৯ জন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৫৮ জন, আনসার আল ইসলামের ২৫ জন, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের ১৬ জন, নব্য জেএমবির ১৬ জন, ‘আল্লাহর দল’-এর ৯ জন, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার একজন এবং ইমাম মাহমুদের কাফেলার একজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা জামিন পাওয়ার পর আদালতে আর হাজিরা দেননি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পলাতকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৮৬ জন, রংপুরে ৫২ জন, খুলনায় ৩২ জন, রাজশাহীতে ২৪ জন, সিলেটে ৭ জন এবং ময়মনসিংহে ৬ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত ৯ জঙ্গিকেও এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পলাতক এসব সদস্যের কারণে অনলাইন ও অফলাইনে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাঁদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, অর্থায়নের উৎস এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বিচারাধীন বা তদন্তাধীন জঙ্গি সদস্যদের দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। আত্মগোপনে থেকে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তাই তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

এই বিভাগ এর আরো খবর

দুর্গাপূজা ঘিরে সতর্ক বিএনপি

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর