মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া-পেকুয়ার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক

🗓 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭২ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: টানা ৬-৭ দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে তিনি অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলার বেতুয়া বাজার স্টেশন এলাকা এবং কোনাখালী ইউনিয়নের মরংগুনা এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি বন্যাকালীন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধ ও মোমবাতিও বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন।

May be an image of text

পরে জেলা প্রশাসক পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাংলাপাড়া গ্রামের পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেন। এরপর তিনি সদর ইউনিয়নের ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২৪টি পরিবার ওই মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা প্রশাসক আশ্রিত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন।

May be an image of text that says '一次 CAMON 40 23mm f/1.8 1/126s 23mmf/1.81/1265IS050 ISO50'

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “গত শনিবার থেকে কক্সবাজার জেলায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সাধারণত জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

অথচ গত ছয় দিনে প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মাসিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশের সমান। এ কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বান্দরবানসহ উজানের এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীর পানির স্তর বেড়েছিল। তবে গতকাল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকলেও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।”

May be an image of one or more people, tree and text that says 'बন BOR Soc 0cB Becs -BIDM -6ΙρИ 시안 CAMON 40 23mm f/1.8 1/271s 23mmf/1.81/27115050 ISO50'

জেলা প্রশাসক জানান, কক্সবাজার জেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, “জেলার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, সিপিপি সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ত্রাণ ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বৃষ্টিপাত আরও কমে গেলে এবং পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

দুর্গাপূজা ঘিরে সতর্ক বিএনপি

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর