শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে টইটংয়ে কেরনছড়ি কালভার্ট

🗓 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৮৬ বার দেখা হয়েছে

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির তীব্র স্রোতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের কেরনছড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে।

এতে অন্তত চার হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্টের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে টইটং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রবল স্রোতে বহু গ্রামীণ সড়ক ও কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। গত ৯ জুলাই রাতে পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে কেরনছড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত কালভার্টটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এরপর থেকেই কেরনছড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টটির দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। রাস্তার দু’পাশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

দুটি পিলারের ওপর কোনোমতে স্ল্যাবটি ঝুলে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেটিও ধসে পড়তে পারে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার করছেন।

কেরনছড়ি এলাকার বাসিন্দা কৃষক বাদশাহ মিয়া বলেন, এখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। আড়াই বছর আগে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আগে বাঁশের সাঁকো ছিল।

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির ধাক্কায় কালভার্টটি ভেঙে গেছে। মানুষের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ হচ্ছে। দ্রুত নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই কালভার্ট দিয়েই স্কুলে যেতাম। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলে, আমরা খুব ভয় নিয়ে কালভার্ট পার হই। বাবা-মাও যেতে দিতে ভয় পান। দ্রুত নতুন ব্রিজ বা কালভার্ট করে দিলে ভালো হয়।

বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী আজিফানুর আফ্রিন বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নিয়মিত মাদরাসায় যেতে পারছি না। মেয়েদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অটোরিকশাচালক আবদু শুক্কুর বলেন, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। আমাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ী ছাবের আহমদ বলেন, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় ঠিকমত দোকানে যেতে পারছিনা। ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা জরুরি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল খালেক বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, আলহেরা মাদরাসা, টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টইটং উচ্চ বিদ্যালয়, টইটং ইউনিয়ন পরিষদ, বনকানন বাজার ও বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।

কালভার্ট ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে আরও বড় দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটি অপসারণ করে নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ এবং আপাতত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর