মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর দুষ্টুমি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় 

🗓 সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ আগস্ট) :: শিশু বলে কথা, একটু দুষ্টুমি তো করবেই। সেই দুষ্টুমি যদি লাগামে না থাকে, তা হলে তা যেমন তার নিজের জন্য ক্ষতিকর হয়, তেমনই পরিবারের অন্যদেরও বিরক্তির কারণ হয়। শিশুকে সৌম্য, সভ্য ও ডিসিপ্লিন্ড করে গড়ে তোলার জন্য তার দুষ্টুমির হাল ধরা প্রয়োজন। শিশুর দুষ্টুমিকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়

দুষ্টুমির ধরন দেখা : শিশুদের কিছু আচরণ শুধুই শিশুসুলভ অভিব্যক্তি। আর কিছু বিষয় থাকে কোনো বিষয়ে কৌতূহল। প্রথমে তাকে অবজার্ভ করে বুঝতে হবে যে কোনটা তার কৌতূহল, কোনটা শিশুসুলভ চাঞ্চল্য; আর কোনটা অকারণ বাড়াবাড়ি বা সত্যিকার দুষ্টুমি। কিছু সরল দুষ্টুমি থাকে, যা হয়তো অতি আহ্লাদের ফলে হয়ে থাকে।

তার যে দুষ্টুমিগুলো বিশেষ কোনো ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, সেগুলোতে কিছুটা ছাড় দেওয়াই যায়। হয়তো একটু বুঝিয়ে বলতে হবে যে এই কাজটি ঠিক না, বরং এর পরিবর্তে সে অন্যভাবে কাজটি করতে পারে। তার আচরণে অন্যরা বিরক্ত হচ্ছে, কারও বিরক্তির কারণ হওয়া ঠিক না– বিষয়টা বুঝিয়ে দিতে হবে ঠিক যে ভাষায় বললে সে বোঝে। আর যে দুষ্টুমিগুলো ক্ষতিকর, সেগুলো নির্দিষ্ট করে নিতে হবে তার পর বুঝিয়ে হোক বা একটু শাসন করে হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

ছোট ছোট পদক্ষেপ: একসঙ্গে শিশুর আচরণগত সমস্ত ত্রুটি ঠিক করে ফেলতে যাবেন না। বুঝতে হবে তারা শিশু, সবকিছু তারা বুঝে করছে না। নতুন একটা কিছু শিখছে, সেটা নিয়েই চর্চা করে যাচ্ছে। তা ঠিক না ভুল–সে বুঝতেই পারছে না। যেগুলো বেশি ক্ষতিকর এবং বিরক্তিকর তার ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে একটি একটি করে আচরণ শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে। একসঙ্গে সব দিক শোধরাতে গেলে শিশু বিরক্ত হয়ে যাবে, তাতে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

প্রতি বিষয়ে হস্তক্ষেপ: হতে পারে একই শিশুর বেশ কয়েক ধরনের আচরণগত ত্রুটি আছে। যদি প্রতি বিষয়ে তার ভুল ধরা হয় বা প্রতিটি দুষ্টুমির জন্য বকাঝকা করা হয়, তা হলে সে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠতে পারে। রাগারাগি না করে একটু ধৈর্যের সঙ্গে ধীরে ধীরে সময় নিয়ে বিষয়টি সামলাতে হবে।

সবার সামনে ভুল ধরবেন না: অনেক সময় শিশুর ভুলের জন্য সবার সামনেই বকাঝকা করা হয়। এতে শিশুর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে, যা তাকে আরও উদ্ধত করে তোলে। যে ভুলত্রুটিগুলো শোধরাতে হবে তা নিয়ে একান্তে শিশুর সঙ্গে কথা বলাই ভালো। এতে করে শিশু বুঝতে পারে যে অভিভাবক আসলে তার ভালোর জন্য কথাগুলো বলছেন। তার ভেতর থেকেই শোধরানোর ইচ্ছা তৈরি হয়।

সম্মিলিত চেষ্টা: একটি শিশু কেবল বাবা বা মায়ের আচরণেই প্রভাবিত হয় না, সে তার আশপাশের সবার দ্বারাই প্রভাবিত হয়। এ জন্য চেষ্টা করতে হবে শিশু যেন একটা ভালো পরিমণ্ডলে থাকতে পারে। শিশুর এই ভুলত্রুটিগুলো শোধরানোর দায়িত্ব পরিবারের সবাইকে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে। শুধু মা সারাক্ষণ শিশুর পেছনে পড়ে আছেন কিংবা বাবা তাকে শাসনে রাখছেন– এ রকমটা হলে শিশুর জন্য অস্বস্তিকর, তেমনই মা কিংবা বাবার জন্যও কষ্টকর। পরিবারের সব সদস্য যদি একটু সচেতন হয়, তা হলে আলাদা করে হয়তো কাউকে ব্যতিব্যস্ত হতে হয় না। শিশুও সহজাতভাবেই বিষয়গুলো বুঝতে পারে।

স্ক্রিন টাইম: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা। ব্যস্ততার কারণে অনেকেই হয়তো শিশুদের মোবাইল বা এ ধরনের ডিভাইস দিয়ে ভুলিয়ে রাখতে চান। কিন্তু স্ক্রিন আসক্তি মানসিকভাবে শিশুদের অস্থির করে তোলে, যার প্রেক্ষিতে শিশুদের বাহ্যিক আচরণেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে।

চিকিৎসকের শরণাপন্ন: অনেক সময় বাড়াবাড়ি রকমের দুষ্টুমিগুলো হয়তো শিশুর অনিচ্ছাকৃত হয়ে থাকে। জেনেটিক কারণে বা পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে কিছু মানসিক জটিলতা থেকে এমন কিছু হয় যা তার নিজের পক্ষেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এ রকম ক্ষেত্রে চাইল্ড সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর