কক্সবাংলা ডটকম :: অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে দেখা গেল বোলারদের দাপট। একদিনে পড়ল ১৮টি উইকেট। যার পর ফের প্রশ্নের মুখে অস্ট্রেলিয়ার পিচ।
আর এক দিনে ১৮টি উইকেট পড়ে তৈরি হলো রেকর্ড। এটি গত ৫১ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টের প্রথম দিনে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের পতনের রেকর্ড।
মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে গেলেও, পরে বল হাতে ৬ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৬৫/৮ রানে আটকে ম্যাচে দারুণ লড়াই ফিরিয়ে এনেছেন শরিফুল ইসলাম (Shoriful Islam world record Mackay Test)।
সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসে গড়লেন এক অভূতপূর্ব একক বিশ্বরেকর্ড।
এক নজরে
- ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই পড়ল ১৮টি উইকেট, যা গত ৫১ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
- মিচেল স্টার্কের ১০ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেটের আগুনে স্পেলে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ।
- ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম।
- বল হাতে একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়ে টেস্টের ইতিহাসে অনন্য অলরাউন্ড বিশ্বরেকর্ড গড়লেন শরিফুল।
- ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ৫১ রানের সুবাদে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া।
স্টার্কের আগুনে ধ্বংস বাংলাদেশ, ২২ বলেই ফাইফার
টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই প্রথম বলে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়ে ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। এরপর তানজিদ তামিম, নাজমুল শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাসকে দ্রুত ড্রেসিংরুমে পাঠিয়ে মাত্র ২২ বলের স্পেলে নিজের কেরিয়ারের ১৯তম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এই অজ়ি স্পিডস্টার। মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট এবং একপর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক।
১১ নম্বরে নেমে রেকর্ড শরিফুল-তাইজুলের
দল যখন নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার চরম লজ্জার মুখে, তখন দশম উইকেটে ২৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা মান বাঁচান তাইজুল ইসলাম (১২) ও শরিফুল ইসলাম। সবার শেষে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। টেস্টের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১ নম্বরে নেমে কোনও ব্যাটারের দলীয় সর্বোচ্চ রান করার ঘটনা এটিই প্রথম এবং টেস্ট ইতিহাসে সব মিলিয়ে ১৩তম। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছিলেন তালহা জুবের। শেষ উইকেটের লড়াইয়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত থামে ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে।
ব্যাট হাতে রেকর্ডের পর বল হাতে শরিফুল ম্যাজিক: বিশ্বরেকর্ড
ব্যাট হাতে লড়াইয়ের পর বল হাতে যেন আরও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন শরিফুল ইসলাম। ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ (৪২), ব্রিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে একাই শিকার করেন ৩৫ রানে ৬ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে শরিফুল ইসলামই প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি একই টেস্ট ম্যাচে ১১ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার কীর্তি স্থাপন করলেন।
দিন শেষে চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া
স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি ভাঙার পর ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল অজ়িরাও। তবে দিনের শেষভাগে ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ৫১ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তারা বর্তমানে ১০১ রানে এগিয়ে থাকলেও প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পতনের এই রোমাঞ্চকর টেস্টে ম্যাচের পাল্লা এখনও দু’দলের দিকেই ঝুলছে।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনে শরিফুল ইসলাম কোন ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন?
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্ট ম্যাচে ১১ নম্বরে নেমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ইনিংসে ৫ বা তার বেশি (৬টি) উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন শরিফুল ইসলাম।
মিচেল স্টার্ক প্রথম ইনিংসে কেমন বোলিং করেছেন?
মিচেল স্টার্ক ১০ ওভারে ৬টি মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬টি উইকেট তুলে নেন, যার মধ্যে মাত্র ২২ বলের স্পেলেই ৫ উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনে ১৮ উইকেট পতনের রেকর্ড কতটা বিরল?
টেস্টের প্রথম দিনে ১৮ উইকেট পতনের এই ঘটনাটি গত ৫১ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট পতনের নজির।
আপনি কি জানেন?
- টেস্টের ১৫০ বছরের ইতিহাসে শরিফুল ইসলামই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি একই ম্যাচে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রান এবং বল হাতে ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন।
- টেস্ট ম্যাচের ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার নজিরে চারবার এই কীর্তি গড়ে জেমস অ্যান্ডারসনকে (৩ বার) টপকে গেলেন মিচেল স্টার্ক।
- অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১ নম্বরে নেমে কোনও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার ঘটনা টেস্ট ইতিহাসে এটিই প্রথম।














