বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পষ্ট হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাঠামো

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ১৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ১৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৮ অক্টোবর) :: সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া কোন পথে এগোবে, কোন কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে এবং কোথায় এখনও মতপার্থক্য রয়েছে—জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির ছয়টি বৈঠকের পর এসব বিষয়ে একটি প্রাথমিক কাঠামো স্পষ্ট হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।

বিশেষ করে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও গণভোটের সুরক্ষার আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর আওতায় বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকেও রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে গঠিত বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়েছে।

আরও কয়েকটি পক্ষের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কমিটির লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া, যাতে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিল উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি নেই।

কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংবিধানের কোন কোন বিধান সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে। পরে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিলের খসড়া তৈরি করবে। বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর নিয়ম অনুযায়ী আলোচনা ও বিতর্ক হবে। এরপর ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের কোনো বিল সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হয়। পরে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতিকে সাত দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মতি না দিলে তা সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হয়। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোয় এই প্রচলিত সংসদীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে গণভোটের একটি অতিরিক্ত ধাপ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনা হলে গণভোটের প্রয়োজন হয়। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ গণভোটের সুরক্ষার আওতায় থাকা কোনো বিধানে পরিবর্তন আনা হলে সংসদে সংশোধনী বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোট আয়োজন করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে গণভোটের সুরক্ষার আওতায় আনার প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল হলে কোনো সংসদ সেটি পরিবর্তন বা বাতিল করতে চাইলে শুধু সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট হবে না—গণভোটের বাধ্যবাধকতা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব এসেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় না জড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে আর কোন কোন সাংবিধানিক বিধান গণভোটের আওতায় থাকবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি

সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সংবিধানে কীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানের কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদ সীমিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কাঠামোগত সংস্কার, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপদ্ধতিতে পরিবর্তন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।

উচ্চকক্ষ নিয়ে মতপার্থক্য

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য থাকলেও এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। উচ্চকক্ষের গঠন কেমন হবে, সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হবেন এবং উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী হবে—এসব বিষয়েও বিস্তারিত সাংবিধানিক বিধান এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ফলে ছয়টি বৈঠকের পর সংবিধান সংশোধনের সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়ে গেছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। কমিটির কাজের একটি বড় অংশ এখনও মতামত সংগ্রহ, প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বৈঠকে উত্থাপিত এবং লিখিতভাবে জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বিচারক, আইনজীবী, নারী নেতৃত্বসহ আরও বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

মৌলিক কাঠামো নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন

বর্তমান সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদে প্রস্তাবনা, প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, মৌলিক অধিকারের বড় অংশসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কিছু বিধান সংশোধন অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ১৪২ অনুচ্ছেদে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধনের সাধারণ পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে যেসব প্রস্তাব সংবিধানের প্রস্তাবনা বা মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রশ্নও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত ও আইনি দিক পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন।

বিশেষ কমিটির বাইরে ১১ দল

জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট বিশেষ কমিটির বাইরে রয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলে তারা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আলোচনা, মতামত প্রদান এবং সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ পাবে।

বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠলেও সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না। ফলে সংবিধান সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত গণভোট আয়োজন করা হলে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে জনগণের সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সেই গণভোটের ফল কী হবে, তা এখনই নির্ধারণ করে বলা সম্ভব নয়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

স্পষ্ট হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাঠামো

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

মারা গেলেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা ঘিরে সতর্ক বিএনপি

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর