বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও অচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর : হস্তক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

🗓 রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

👁️ ৫৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

👁️ ৫৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৭ ফেব্রুয়ারি) :: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৪ দফা দাবিতে আবারও অচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)  রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন।

এর ফলে কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুইদিন পরই আবারও চরম অচলাবস্থার শঙ্কায় পড়েছে বন্দর।

এর আগে শুক্রবার রাতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারাও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, চার্জশিট) প্রত্যাহার করতে হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা আইনি হয়রানি করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল।

উপদেষ্টার আশ্বাসে রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।

তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দিয়েছেন।

শ্রমিক নেতারা এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাদের দাবি, বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানীকৃত খাদ্যশস্য, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েক দিন টানা ধর্মঘট চললে জেটিতে জাহাজের জট এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার।

শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে। রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ বন্দরে কোনো কাজ চলবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

হস্তক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সই করা চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা দফতরে আজ এ পত্র দাখিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা সর্বমহলে সমাদৃত। । বিশেষ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে উদ্ভূত অচলাবস্থা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদে’র আগামীকাল থেকে ঘোষিত লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ডাক আমাদের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দরে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সম্মুখসারির সহযোদ্ধা। তাই নির্বাচনের এ গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনকারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

চিঠিতে বলা হয়, বিগত সাত দিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ ও সমন্বয় সভা করেছে, যেন বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আস্থার সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা অচলাবস্থার ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সব প্রধান রফতানি খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আসন্ন রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে।

বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝা। এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরো জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে আমরা মনে করি।

তারা প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের চারদিন আগে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এমতাবস্থায়, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা আপনার ব্যক্তিগত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।

তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষই আপনার বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। একমাত্র আপনার বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনাই পারে এ সংকটময় অচলাবস্থা নিরসন করে একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সময়োপযোগী পদক্ষেপই বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

বঙ্গভঙ্গের কুশীলব লর্ড কার্জন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর