নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে একটি মাত্র ওয়ার্ডে ১৯টি বেডের বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪৩ জন রোগী। ফলে এক বেডে দুই থেকে তিনজন রোগীকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, একই ওয়ার্ডে শিশু, নারী ও পুরুষ রোগীদের একসাথে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতেও শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, এক বেডে একাধিক রোগী রাখার কারণে রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বয়স্ক রোগীদের মধ্যে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীও রয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মারুফ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “১৯টি বেডে এত রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে একদিন রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে।”
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান জানান, কুতুবদিয়া একটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় এখানকার বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামো অপর্যাপ্ত।
তিনি বলেন, পুরাতন ৩১ শয্যার ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে এবং নতুন ভবনের কিছু অংশ এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ ও সেবার মান উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, অবকাঠামোগত সংকট এবং প্রয়োজনীয় ওয়ার্ডের অভাবে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।













