নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া ‘মুজিববর্ষ ঘর’ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বিত্তবানরা এসব ঘর পেয়েছেন, আবার অনেকেই ঘর বিক্রি বা ভাড়া দিয়েছেন।
উপজেলায় হস্তান্তর করা ১৭৮টি ঘরের মধ্যে বড়ঘোপ মিয়ারঘোনা এলাকায় ২২টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে বসবাস করছেন মাত্র ৯টি পরিবার।
বাকি ঘরগুলোর কিছু সাদা স্ট্যাম্পে বিক্রি করা হয়েছে, আবার কিছু মাসিক ২ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এমনকি তিনটি ফিশিং বোটের মালিকের নামেও ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ ঘর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
মলমচরের বাসিন্দা মোতাহেরা বেগম তার প্রাপ্ত ঘরটি তানিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় সাদা স্ট্যাম্পে বিক্রি করে বর্তমানে চার কক্ষবিশিষ্ট পাকা ঘর নির্মাণ করছেন।
একইভাবে মধ্যম কৈয়ারবিল বেড়িবাঁধ এলাকার রুমা আক্তার তার ঘরটি আজম কলোনির আব্দুল করিমের কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
বড়ঘোপ আজম কলোনির ওলী উল্লাহর নামে ২০২৩ সালে বরাদ্দ পাওয়া ঘরটিও বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার পরিবার ইতোমধ্যে তিনটি ফিশিং বোটের মালিক এবং অন্যত্র জমিও ক্রয় করেছে।
একই এলাকায় শওকত হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত ঘরটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
যদিও তার নামে খতিয়ান রয়েছে, তবে ভূমিহীন সনদ দেখাতে পারেননি তিনি।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালের একটি আবেদনের ভিত্তিতে তাকে এই ঘর দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, এসব ঘর নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সাদা স্ট্যাম্পে ক্রয় করা ব্যক্তিরা টাকা ফেরত পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
তারা এখন ঘর রাখতে আগ্রহী নন, বরং তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চান।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বুধবার দুপুরে পরিদর্শনে যান কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাকিব উল আলম।
তিনি বলেন, ঘর বিক্রি, ভাড়া দেওয়া এবং ফাঁকা থাকার অভিযোগের অধিকাংশই সত্য বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে যেন কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।














