কক্সবাংলা রিপোর্ট :: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দিন দিন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘মারসা পরিবহন’।
একের পর এক দুর্ঘটনা, যাত্রী হতাহত এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে পরিবহনটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
সচেতন মহলের মতে, অদক্ষ চালক, অনিয়ন্ত্রিত গতি ও পরিবহনটির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণেই মহাসড়কে বারবার ঝরছে প্রাণ।
সর্বশেষ শনিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় হোটেল ফোর সিজনের সামনে মারসা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৫ জন যাত্রী।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পটিয়ার চরকানাই এলাকার রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহের জিহাদ ও নাঈম ইসলাম, এবং ভোলার মো. মনির।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ বাস দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
যাত্রীরা জানান, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী মারছা পরিবহনের দুটি বাস চুনতি এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় দুই চালক একে অপরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।
এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং রাস্তার দুপাশে থাকা গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এ ঘটনায় ৫ যাত্রী প্রাণ হারান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত এক বছরে মারসা পরিবহনের অন্তত অর্ধশত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
এসব দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ও অসংখ্য যাত্রী আহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণও করেছেন।
এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী হাসেঁর দিঘী সেনা ক্যাম্পের সামনে মারসা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তারা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ভ্রমণে যাচ্ছিলেন।
যাত্রী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, একসময় মারসা পরিবহন অনেকের কাছে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের আস্থা হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই এখন এই পরিবহনে উঠতে ভয় পান।
স্থানীয়রা অবিলম্বে মারসা পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বেপরোয়া চালকদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
কক্সবাজার জেলা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে কিছু পরিবহনের চালকদের অসচেতনতা, অতিরিক্ত গতি ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















