বুধবার ১৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ বছর ধরে যাতায়াত বন্ধ পেকুয়ার কাজিবাজার-কাটাফাঁড়ি সড়ক

🗓 বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া  :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১১ গ্রামের ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগের নাম কাজিবাজার-কাটাফাঁড়ি সড়ক।

একসময় এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ দুই দশক ধরে সংস্কারের অভাবে এখন সড়কটির অধিকাংশ অংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের চিহ্ন পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে সড়কের উপর ইট বিছানো হলেও বর্তমানে সেই ইটের অস্তিত্ব নেই। প্রায় এক যুগ আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল হয়ে পড়ে অত্যন্ত দুর্বিষহ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মটকাভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কোদাইল্যাদিয়া এলাকার একারাম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ পাঁচ বছর আগে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম মাটি দিয়ে সংস্কার করেছিলেন।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কোনোরকমে চলাচল করছেন কোদাইল্যাদিয়া, মগঘোনা, দরদরিঘোনা, রঙিলখালের পূর্বকূল, কালারপাড়া, শুদ্ধখালীপাড়া, বেদেরবিল, চান্দারপাড়া, মরিচ্যাদিয়া, নাপিতারদিয়া ও মটকাভাঙাসহ দক্ষিণ-পূর্ব মগনামার হাজারো মানুষ।

সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে অন্তত সাত গ্রামের মানুষকে পেকুয়া সদরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে যেতে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।

মটকাভাঙা এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন,এই সড়কটি একসময় আমাদের এলাকার প্রাণ ছিল। এখন বর্ষাকালে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী বা স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।

কিংস্টন স্কুলের শিক্ষক তাজকিয়া নাজনীন কর্ণিয়া বলেন,শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা জমে যায়, পিচ্চিল সড়কে অনেক সময় স্কুলে যেতেও বেগ পেতে হয়। তাছাড়া বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়।

মগঘোনা এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক খোরশেদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি না থাকায় মানুষ মানবেতর কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ও আবদুল হাকিম বলেন, ব্যবসায়িক কাজে মালামাল পরিবহনে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভালো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।

কাজি মার্কেট এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক ইসমাইল বলেন, এই সড়কটি সংস্কার করা হলে দক্ষিণ মগনামার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই উপকৃত হবে।

কালারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কাশেম উদ্দিন বলেন, এটি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বহু মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কোদাইল্যাদিয়ার বাসিন্দা ও প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন। এক সময় এই সড়কটি দিয়ে মগনামাসহ উজানটিয়ার মানুষও চলাচল করতো। দেড় যুগের বেশি সড়কটি নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে। এই সড়কটি হলে দক্ষিণ-পুর্ব মগনামার মানুষের স্বস্তি ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন,সড়কটির বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর