মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট : শেষ সময়ে বেড়েছে বেচাকেনা

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :: আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ।

আর এই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারের চকরিয়ায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। শেষ কদিনে যেসব হাট আছে, সেসব হাটে কোরবানি পশু বেচাকেনা ঘিরে বেড়েছে ব্যাপক সমাগম।

ইলিশিয়া কোরবানি পশুর হাটের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে অনুমোদিত সময় অনুযায়ী রোববার ও বুধবার ইলিশিয়া কোরবানি পশুর হাট বসে।

রোববার সকাল দশটা থেকে দুরদুরান্ত থেকে গরু ছাগল মহিষ নিয়ে হাটে উপস্থিত হতে থাকে বিক্রেতারা। দুপুরের পর থেকে পুরোদমে বাজারে পছন্দের পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহ আগে থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পশুর হাট গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কুরবানির পশু কেনাবেচা।

বরাবরের মতো এবার ক্রেতাদের কাছে দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরু, মহিষ ও ছাগলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি রয়েছে। বিশেষ করে একান্নবর্তী পরিবার গুলোর চাহিদা মাঝারি সাইজের গরুতে গিয়ে থামছে।

জানা গেছে, ইলিশিয়া গরু বাজারের পর ভালো মানের দেশীয় গরু বেচাকেনা হচ্ছে চকরিয়া পৌরসভার ঘনশ্যাম বাজার, পৌরসভার মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠ ও চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটে।

এ বাজার গুলোতে দেশীয় গরু উঠে প্রচুর পরিমাণ। এটি প্রতিবছরের একটি রেওয়াজ।

এছাড়াও এলাকাভিত্তিক পশুর হাটের মধ্যে বরইতলী গরুর বাজার, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, ফাঁসিয়াখালী ও মাতামুহুরী এলাকার বিভিন্ন পশুর হাটে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা পছন্দের পশু কিনতে ভিড় করছেন। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের একটি গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে, মাঝারি সাইজের একটি গরু ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং বড় সাইজের একটি গরু দেড় লাখ, দুই লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ছাগল ও মহিষের বাজারেও বেশ জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশীয় গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার বেতুয়াবাজার এলাকার খামারি আবুল কালাম জানান, সারা বছর বিপুল টাকা লগ্নি করে কষ্ট করে গরু লালন-পালন করলেও ঈদ মৌসুমেই লাভের জন্য পালিত গরু বিক্রি করার জন্য হাটে তুলেছি। আশা করছি, শেষ সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে এবং ভালো দাম পাওয়া যাবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, কোরবানি পশুর হাট গুলো উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে তদারকি করা হচ্ছে।

বাজার পরিচালনায় কোনধরণের অনিয়ম হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোরবানি হাটে পশু বিক্রেতা ও পশু ক্রেতাদের যাতে হয়রানি না করে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের কুরবানির পশুর বাজার সম্পন্ন হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের যেকোনো সমস্যায় প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোরবানি পশুর হাটে সবধরনের সমস্যা নিরসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ করে যাচ্ছে। বড় বড় পশুর হাটে আইন-শৃঙ্খলা পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পশুর হাটে চুরি, ছিনতাই ও জাল টাকা ব্যবহার প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি তিনি কোরবানি পশুর বেচাকেনার সময় জাল টাকার বিষয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সর্তক থাকার আহবান জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল তৎপর বাড়ানো হয়েছে।

পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার জন্য ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও কাজ করছে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর