সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরাকান প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলল রোহিঙ্গা কাউন্সিল

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: উত্তর আরাকানে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত ইউনাইটেড লীগ অব আরাকানের (ইউএলএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল (এআরএনসি)।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইউএলএর প্রতিবেদনটি রোহিঙ্গাবিরোধী বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

‘উত্তর আরাকানে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা: একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে “ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী”, “ধর্মীয় আধিপত্য”, “একচেটিয়া মুসলিম অঞ্চল” ও “খিলাফত”–এর মতো উসকানিমূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এআরএনসি।

সংগঠনটির মতে, এ ধরনের শব্দচয়ন রোহিঙ্গা পরিচয় ও মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে ভুলভাবে সশস্ত্র উগ্রবাদের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

বিবৃতিতে এআরএনসি জানায়, তারা রোহিঙ্গা, রাখাইন, হিন্দু, ম্রো, খুমি, দাইংনেট, থেট ও মারামাগিসহ সব সম্প্রদায়ের বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানায়।

তবে মানবাধিকারের ভাষা ব্যবহার করে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

এআরএনসির দাবি, প্রতিবেদনে আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ঔপনিবেশিক আমলে চট্টগ্রাম থেকে অভিবাসনের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইতিহাসভিত্তিক বিশ্লেষণ নয়; বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক বক্তব্য।

সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গারা বিদেশি, অতিথি কিংবা ঔপনিবেশিক অনুপ্রবেশকারী নয়; বরং তারা আরাকানের অবিচ্ছেদ্য আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় শিকড় রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতিহাসবিদ ফ্রান্সিস বুকানান-হ্যামিল্টন ১৭৯৯ সালের গবেষণায় “রুইঙ্গা” নামে আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উল্লেখ করেছিলেন, যা আধুনিক রোহিঙ্গা পরিচয় বিতর্কের বহু আগের ঘটনা।

এআরএনসি জানিয়েছে, তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বেআইনি হত্যা, অপহরণ কিংবা নির্যাতনের পক্ষে নয়।

যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছে সংগঠনটি।

তবে ইউএলএর প্রতিবেদনকে তারা স্বাধীন তদন্ত নয়; বরং রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগকে আলাদা করে তুলে ধরা এবং আরাকান আর্মি/ইউএলএর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অঙ্গহানি ও ভয়ভীতি সৃষ্টির ঘটনাগুলোর উল্লেখ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

এআরএনসি আরও বলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী পুরো রোহিঙ্গা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে না। অধিকাংশ রোহিঙ্গাই কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ; যারা গণহত্যা, রাষ্ট্রহীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিপীড়নের শিকার।

সংগঠনটি উত্তর আরাকানে বেসামরিক হত্যাকাণ্ড, গুম, গ্রাম পোড়ানো, জোরপূর্বক নিয়োগ, যৌন সহিংসতা, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

একই সঙ্গে ২০১৬–২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে এআরএনসি বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

সবশেষে সংগঠনটি রোহিঙ্গাসহ আরাকানের সব জাতিগোষ্ঠীর বেসামরিক নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর