শুক্রবার ২৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোনে D2D স্যাটেলাইট সংযোগ দিতে ভারতের বড় পরিকল্পনা : দুশ্চিন্তায় অ্যাপল-গুগল

🗓 শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ মে) :: বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহৃত স্মার্টফোনে এখনও সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ বা ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস (ডিটুডি) পরিষেবা সচল করা সম্ভব হয়নি।

কারণ, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারিগরি প্রতিবন্ধকতা। অনেক দেশের টেলিকম সংস্থা এসব তথ্য দিয়েছে অ্যাপলকে।

এদিকে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মোদী সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস’ (ডি২ডি) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্মার্টফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।

  • কী বলছে অ্যাপল

স্যাটেলাইট পরিষেবা সচল করতে আইফোনের হার্ডওয়্যারে অনেক ধরনের কারিগরি পরিবর্তন বা নতুন করে সার্টিফিকেশন দরকার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সক্রিয় থাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর যেন কোনো ধরনের বাড়তি বা নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে সংস্থাকে।

আরেক টেক জায়ান্ট গুগলও ডিটুডি পরিষেবা নিয়ে এমন উদ্বেগের কথা বলেছে।

সংস্থাটি বলছে, স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য যে ধরনের ব্যাটারির সক্ষমতা প্রয়োজন, তা এখনও বাস্তব করা সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া খুদে অ্যান্টেনা, দুর্বল সিগন্যাল আর চলমান ফোরজি-ফাইভজি নেটওয়ার্কের মধ্যে কারিগরি মিশেল এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যাপল আর গুগল– এ দুই সংস্থাই বলছে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে সাধারণভাবে ব্যবহারযোগ্য করার যথার্থ সময় এখনও হয়নি। এর জন্য আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে।

অনেক ধরনের শিল্প সংস্থাই পরামর্শ দিয়েছে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ঠিকমতো রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কয়েক বছর অপেক্ষা করা উচিত।

চীনে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন সম্মেলনে (ডব্লিউআরসি-২৭) স্যাটেলাইটনির্ভর ডিটুডি পরিষেবার জন্য আন্তর্জাতিক স্পেকট্রাম ব্যান্ড চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

ডি২ডি প্রযুক্তি কী? লাগবে না টাওয়ার!

সহজ ভাষায়, ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস (ডি২ডি) স্যাটেলাইট সংযোগ এমন একটি প্রযুক্তি, যা মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় স্মার্টফোনকে সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।ইতোমধ্যে ডিটুডি প্রযুক্তি নিয়ে পরামর্শপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি দেশে আপাতত এই প্রযুক্তি ক্রমে সক্রিয় করার কাজ এগিয়ে চলেছে।

ডিটুডি পরিষেবা চালু হলে স্মার্টফোনের সক্ষমতা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যাবে।

ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল, ঘন বনাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে, যেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কভারেজ পৌঁছায়নি। অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিকম টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন কিংবা ব্যয়বহুল হওয়ায় সেখানে এই প্রযুক্তি বিকল্প সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যাপল ও গুগল?

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল ও গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো দ্রুত ব্যাটারি ক্ষয়।

কারণ, সরাসরি লো-আর্থ-অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ ও শক্তি প্রয়োজন হয়।

আধুনিক স্মার্টফোন কি স্যাটেলাইট সংযোগ সামলাতে পারবে?

বিশেষজ্ঞরা স্মার্টফোনের অ্যান্টেনা সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

বর্তমানে স্মার্টফোনগুলো পাতলা ও কমপ্যাক্ট ডিজাইনে তৈরি হওয়ায় স্থিতিশীল স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সংযোজনের পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।

এ ছাড়া বিদ্যমান ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সমন্বয় করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রাখা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Your smartphone may soon connect to satellites in India, but Apple and  Google see challenges - India Today

ভারতে ডি২ডি বাস্তবায়ন কঠিন কেন?

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত অবস্থাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল পরিবেশে নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করা কঠিন বলে মত দিয়েছে তারা।

পাশাপাশি, ভারতের প্রচলিত নীতিমালা ও বিধিবিধানের আওতায় এসব সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।

ভারত সরকার কীভাবে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে?

ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে ডি২ডি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে অ্যাপল ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগকে (ডিওটি) কিছু পরামর্শ দেয়।

একই সঙ্গে গুগলসহ বিভিন্ন অংশীজনও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে মতামত জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো জানতে চেয়েছে, ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক মেসেজিং ও জরুরি কল ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালা কেমন হবে।

ট্রাই কী বলেছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই) এ বিষয়ে একটি পরামর্শপত্র প্রকাশ করেছে।

সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই সেবার জন্য আলাদা স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম ব্যবহার করা হবে, নাকি বিদ্যমান মোবাইল নেটওয়ার্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হবে।

এদিকে, সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের আগে ডিওটি শিল্পখাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ডি২ডি স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর