কক্সবাংলা ডটকম :: গরমের দিনে মাথাব্যথা যেন আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় কয়েক মিনিটের জন্যও বাইরে বেরোলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই গরম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রচণ্ড রোদ, শরীরে জলের ঘাটতি, ঠিক মতো ঘুম না হওয়া, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কিংবা হিট এগজশন— এই সবকিছু মিলেই অজান্তে মাইগ্রেনের ট্রিগার হয়ে উঠতে পারে।
1. মাইগ্রেন কেন ট্রিগার হয়?

মাইগ্রেন সাধারণত কোনও একটি কারণে হয় না। বরং একাধিক ছোট ছোট কারণ একসঙ্গে জমে গিয়ে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা ডেকে আনে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালে মাইগ্রেনের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষ করে গরমকালে খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল পান, ঘুম ও শরীরচর্চা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রাতে বেশি সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার, অতিরিক্ত রোদে থাকা, তীব্র গরমে ঘোরা, প্রসেসড বা জাঙ্ক ফুড খাওয়া, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং চকোলেট বা চিজ জাতীয় খাবার মাইগ্রেন বাড়িয়ে দিতে পারে। কী ভাবে এই গরমে নিজেকে সুস্থ রাখবেন?
2. খাবার খাওয়া ও জলপান

মাইগ্রেন এড়াতে নিয়মিত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে অনেকের মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গরমকালে পর্যাপ্ত জল পান করাও খুব প্রয়োজন।
প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করতেই হবে। তবে যাঁদের কিডনি বা হৃদরোগ রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জল পান করাই ভালো।
3. কী খাচ্ছেন সেটাও জরুরি

খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন— ডিম, ডাল, ছোলা, টোফু, পনির, বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট ইত্যাদি।
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত, প্রসেসড বা ডিপ-ফ্রাই খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। সকালে খালি পেটে চা বা কফি না খাওয়াই ভালো। বদলে ডাবের জল শরীরকে স্বাভাবিক ভাবে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কুমড়োর বীজ, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ফল ও সব্জি খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে। সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক, অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহল থেকেও দূরে থাকা ভালো।
4. শরীরচর্চাতেও জোর দিত হবে

শুধু খাবার নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার, নাচ বা জুম্বার মতো অ্যারোবিক এক্সারসাইজ শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে কিছু উপসর্গ একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।
যদি মাথাব্যথার সঙ্গে ঝাপসা দেখা, জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারানো, হাঁটতে সমস্যা হওয়া বা সপ্তাহে দু’বারের বেশি মাথাব্যথা হয়, তাহলে দ্রুত নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।













