কক্সবাংলা ডটকম(৩০ মে) :: গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধান হিসাবে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। অনেকের অভিযোগ, গরিব দেশের তস্য গরিব মানুষকে বিপুল হারের ঋণের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করে মুনাফা লোটার ব্যবসায়িক মডেলের জনক এই মুহাম্মদ ইউনূস।
আমেরিকার প্রভাবশালী বন্ধুদের সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই ব্যবসায়িক মডেলটি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
১৮ মাস বাংলাদেশ শাসনের পরে ইউনূসের বেপরোয়া কাজকর্ম নিয়েও হাজার প্রশ্ন উঠেছে। দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল তাঁর সরকার।
সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা চুরমার হওয়ায় হাম রোগে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছুঁতে চলেছে। আক্রান্ত লক্ষাধিক।
এ বার ইউনূসের আমলে সাংবাদিক-নিপীড়নের যে খতিয়ান প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও চমকে ওঠার মতো। দাবি উঠেছে— ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইউনূসের নোবেল পদক কেড়ে নিক পুরস্কার কর্তৃপক্ষ।
ইউনূসের সরকার বিদায় হওয়ার পরে কোণঠাসা সাংবাদিকেরা দলমত নির্বিশেষ একটি সংগঠন তৈরি করেছেন, যার নাম— নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। গোটা দেশের তথ্যের সন্নিবেশ করে এই সংগঠন নিপীড়নের এই খতিয়ানটি প্রস্তুত ও প্রকাশ করেছে।
তাতে দেখা গিয়েছে, ইউনূস সরকার ৫০০-র বেশি সাংবাদিককে খুনের মতো কঠোর অভিযোগে ভুয়ো মামলার আসামি করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘অর্ধশতাধিক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়ে। ১৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া প্রায় ১২০০ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ১৬৮ জন পেশাদার সাংবাদিকের সরকারি পরিচিতি পত্র (অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড) বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব-সহ নানা প্রেস ক্লাব থেকে ৭০০-র বেশি সাংবাদিকদের সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।’
সংগঠনটির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন— ইউনূসের আমলে শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, শেখ জামাল, মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীর-সহ সারা দেশে ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এঁদের অল্প কয়েক জনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেহেদী হাসান, শাকিল হোসেন, তাহির জামান, এটিএম তুরাব, প্রদীপকুমার ভৌমিক, সোহেল আখঞ্জি-সহ ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে— বিটিভি, ৭১ টিভি, সময় টিভি, ডিবিসি, গান বাংলা, এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা, মাই টিভি, বিজয় টিভি, নিউজ২৪ টেলিভিশন চ্যানেল এবং আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, দৈনিক মুখপাত্র, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেলি সান, বাংলা নিউজ, প্রথম আলো ও ডেলি স্টার সংবাদপত্রের অফিসে গুন্ডামি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে ইউনূসের সমর্থকেরা।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও টেলিভিশনের বার্তা প্রধান-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১২০০ সাংবাদিককে চাপ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ইউনূসের আমলে।
সম্প্রতি ঢাকার রাজপথে মানববন্ধন করে সাংবাদিকেরা দাবি জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে হবে। দুই সাংবাদিক সংগঠন ডিইউজে ও বিএফইউজে-র বন্ধ করে দেওয়া অফিস খুলে দিতে হবে।
সংবাদপত্র অফিসগুলিতে লুট ও অগ্নিসংযোগের বিচার করতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব-সহ সারা দেশের প্রেস ক্লাবগুলির বাদ দেওয়া সাংবাদিকদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিতে হবে। সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকদের ব্যাঙ্ক হিসাব জব্দের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
তাঁদের বিদেশযাত্রার উপরে নিষেধাজ্ঞা খারিজ করতে হবে।
সংগঠিত সাংবাদিক নিগ্রহকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে তুলে ধরে অনেকেই দাবি জানাচ্ছেন, ইউনূসের পদক ফিরিয়ে নেবার ঘোষণা করুক নোবেল কর্তৃপক্ষ। এমন এক জন শাসক নোবেলজয়ী হিসাবে পরিচয় দিলে এই পদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
নির্বাচনে জিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে সম্প্রতি ১০০ দিন পূর্ণ করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। এই সরকারের আমলে নতুন করে কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা না হলেও ইউনূসের আমলে চাপানো মামলাগুলি খারিজ করা হয়নি।
জেলে থাকা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ১৮-২০ মাসেও চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। তার পরেও তাঁদের জামিন দেওয়া হয়নি। সব মামলায় জামিন পেয়ে যাওয়ার পরেও এঁদের নতুন মামলায় জড়িয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর সরকার মিডিয়াকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারেক। তবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সে সবের কিছুই বাস্তাবয়িত হয়নি।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট-এর আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেছেন, ‘ইউনূসের আমলে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া এবং সাংবাদিকদের নির্যাতন বন্ধ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। তারা যদি সেই দায়িত্ব না নেয়, ধরে নিতে হবে তারা সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সাংবাদিকদের মুক্ত করে দিন।’














