মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি : দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

👁️ ১২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

👁️ ১২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম (১৮ জুন) :: বিশ্বের ব্যাংকিং ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও চাঞ্চল্যকর আর্থিক অপরাধÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও হ্যাকিং মামলার তদন্তে দেশি-বিদেশি অপরাধী চক্রের বিশাল নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ভারত, নর্থ কোরিয়া, চীন, শ্রীলঙ্কা ও জাপানের মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ও ডকেট প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার সমর্থনে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, নর্থ কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪ এবং জাপানের ১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, আনিস এ খান, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভংকর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এ এফ এম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ।

রিজার্ভ চুরির মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ভুল খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহায়তায় নর্থ কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ও তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘লাজারাস গ্রুপকে’ মূল অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার হওয়া ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গতিপথও অনুসন্ধান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে।

ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের তদন্তে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে কিছু দেশীয় অভিযুক্তের নাম বাদ দেওয়ার চাপ থাকলেও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এদিকে, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটির তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ১০ বছর পর খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত হওয়ায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা গেলে তা দেশের আর্থিক খাতে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

‘রামায়ণ’ মুক্তি পাচ্ছে নভেম্বরে

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর