কক্সবাংলা ডটকম(২২ জুন) :: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দলটির পক্ষ থেকে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; বরং বাঙালি জাতির অধিকার আদায়, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সংগঠন। গত ৭৭ বছরে দলটি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকারও উল্লেখ করা হয়।
বার্তায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শাসন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার নানা প্রচেষ্টা চলেছে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংকটাপন্ন উল্লেখ করে দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগও তোলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হয়েছে এবং দেশের কোটি কোটি মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বার্তায় দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, কমিউনিটি ক্লিনিক ও আশ্রয়ণ প্রকল্পকে এসব উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা দমন না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, শিশু, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সবশেষে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ভয়, বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ১৫ আগস্টের শহীদ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত নেতা-কর্মী এবং সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।














