কক্সবাংলা ডটকম(২৩ জুন) :: বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেও একটি সোনালি অধ্যায় যোগ করলেন আর্জেন্তিনার (Argentina) অধিনায়ক লিওনেল মেসি (Lionel Messi)।
প্রথম ম্যাচে একাই ৩টি গোল, দলের স্কোর ৩-০। দ্বিতীয় ম্যাচে দলের স্কোর ২-০, দুটি গোলই লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ৫ গোল করে স্বপ্নের ফর্মে আর্জেন্টাইন লেজেন্ড।
মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ড ভেঙে হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোরার। একইসঙ্গে প্রথম দুই ম্যাচে ৫ গোল করেও গড়লেন নজির।
আলজেরিয়ার পর অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করে ফেলল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
অস্ট্রিয়ার (Austria) বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করে হতাশা বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী তে দেননি।
পরে গোল করে ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ইতিহাসে পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন মেসি, তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে যোগ হয় আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।
ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘J’- র ম্যাচের নবম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ়কে (Lautaro Martinez) বক্সের ভিতরে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্তিনা।
স্পট-কিক নিতে এসে মেসি বল জালে জড়াতে পারেননি। তাঁর শট গোলপোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়।
বিশ্বকাপে এর আগে ২০২২ সালে পোল্যান্ডের (Poland) বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালে আইসল্যান্ডের (Iceland) বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় পেনাল্টি মিস।
পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ইতিহাস
পেনাল্টি নষ্ট করলেও ম্যাচে নিজের প্রভাব ফেলতে বেশি সময় নেননি মেসি। ৩৮ মিনিটে গোল করে তিনি রেকর্ড করে ফেলেন। এই ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮। জার্মানির (Germany) কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে (Miroslav Klose) পিছনে ফেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় একক ভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে দু’জনেরই গোলসংখ্যা ছিল ১৬।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এটি মেসির আরও একটি স্মরণীয় কীর্তি। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়ার পর এ বার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিলেন তিনি।
আলজেরিয়ার ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল রেকর্ডের পথে যাত্রা
এই বিশ্বকাপে মেসির দুরন্ত ফর্মের শুরু হয়েছিল আলজেরিয়ার (Algeria) বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকেই। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচে নেমে তিনি বিশ্বকাপ কেরিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সেই ম্যাচে আর্জেন্তিনা ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল। ৩৭ বছর বয়সেও মেসির ফিটনেস, গতি এবং গোল করার ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীরা। উরুতে সামান্য চোট থাকলেও মাঠে তাঁর খেলায় তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে করা তিন গোলই তাঁকে ক্লোজ়ের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছে দিয়েছিল। আর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে গোল করেই তিনি একাই ইতিহাসের শীর্ষে উঠে গেলেন। এর পরে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে তিনি আরও একটি গোল করেন।
মেসির রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে এমবাপে
তবে মেসির এই রেকর্ড ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ ফ্রান্সের (France) তারকা কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) দ্রুত তাঁর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন। সেনেগালের (Senegal) বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গিয়েছেন। ফলে মেসির থেকে তিনি খুব বেশি পিছিয়ে নেই।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এমবাপের বয়স এখন মাত্র ২৭ বছর। তাই ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে মেসির এই রেকর্ড ভাঙার সবচেয়ে বড় দাবিদার ফরাসি তারকাই। তবে এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসে আছেন মেসি। তবে সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার লড়াইও যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই যায়।














