মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে!

🗓 সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

👁️ ২০ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

👁️ ২০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ জুন) :: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৮ বছরের তরতাজা তরুণ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন।

অথচ এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই ‘জুলাই শহিদ’-এর পরিবারে চূড়ান্ত টানাপড়েন।

ছেলের মৃত্যুর পরে পাওয়া সরকারি অনুদানের টাকায় তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ শাহরিয়ারের মা, মমতাজ বেগমের।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, অনুদানের অপব্যবহার রুখতে শহিদ পরিবারের ভাতা স্থগিত রাখার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

অনুদানের টাকায় বিয়ে? মায়ের গুরুতর অভিযোগ

গত ১৪ জুন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রকের সচিবের কাছে একটি বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতাজ বেগম।

শাহরিয়ারের মায়ের অভিযোগ, ছেলে শহিদ হওয়ায় যে সরকারি অনুদান পেয়েছিলেন তাঁরা, তা আত্মসাৎ করে চলতি বছরের ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তাঁর স্বামী তথা শাহরিয়ারের বাবা, শেখ আবদুল মতিন।

মমতাজ বেগমের দাবি, ছেলে মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর স্বামী বেকার ছিলেন। এখন অনুদানের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতে পেয়ে তাঁর ‘মাথা ঠিক নেই’।

স্বামীর এই আচরণে চরম মানসিক যন্ত্রণায় তিনি ও তাঁর ১০ বছরের মেয়ে একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন শহিদের মা।

সরকারি অনুদানের ‘অপব্যবহার’ রুখতে ছেলের নামে পাওয়া সমস্ত ভাতা সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

বাবার সাফাই: ‘বংশধর’ চাই, স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই বিয়ে

অন্যদিকে, যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শহিদের বাবা শেখ আবদুল মতিন। ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি আইনি ভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের মতে তাঁর প্রথম স্ত্রীর আর সন্তান ধারণের ক্ষমতা নেই। তাই পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠদের চাপে এবং ‘বংশধর’ পাওয়ার তাগিদেই তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হয়েছে।

সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন আবদুল মতিন।

তিনি জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এককালীন ৩০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়েছেন তাঁরা।এ ছাড়া প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পান তাঁরা। এর ঠিক অর্ধেক ভাগ যায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগমের অ্যাকাউন্টে।

প্রথম স্ত্রীর ভাগের সেই টাকায় তিনি হাত দেননি। উলটে, তিনি যে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন, সেখানে গিয়েও তাঁর প্রথন স্ত্রী একই অভিযোগ করায়, গত ৬ জুন তিনি তাঁর চাকরিটি খুইয়েছেন বলে দাবি করেছেন আব্দুল মতিন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন HSC পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার। তাঁর চোখের পাশ দিয়ে গুলি গিয়ে লেগেছিল মাথায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, ২০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

যে পরিবার একসময়ে তাঁদের একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন, আজ তাঁরাই দুই ভাগে বিভক্ত।

মাত্র ৮ বছর বয়সে দাদাকে হারানো ছোট বোনটি, বাবা-মায়ের এই দ্বন্দ্বে আজ দিশেহারা।

এই বিভাগ এর আরো খবর

লাভ কমায় কমতে পারে চাল উৎপাদন

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর