মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় পাহাড়ের বুক কেটে রাস্তা,জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

🗓 সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

👁️ ২২ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

👁️ ২২ বার দেখা হয়েছে

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের গলাছিরা তিন মোয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মূল্যবান বনের গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। চক্রটি ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করার সাহস নেই। তবে অভিযোগের পর বন বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে শুনেছি।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিটের আওতায় সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর উত্তোলন করা হবে বালু। আর এই সড়ক ব্যবহার করে বালু উত্তোলন, গাছ পাচার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। দেখলে মনে হয় যেন পাহাড়ের বুকে ছোরা চালানো হয়েছে। পাহাড়ের বুক থেকে বের হচ্ছে লাল রক্ত।

ওই সড়কের দুই পাশে কাটা ঢাল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের জন্য যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আনিসুর রহমান সওদাগর, আব্দু রহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ কাজে পরোক্ষভাবে জড়িত।

টৈটং বনবিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালিব মুবিন এর সহযোগিতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পরিবেশবিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যদিও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

একটি সুত্র জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দেলোয়ার হোসেন রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সরেজমিনে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে টৈটং বিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব মুবিন বলেন, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ কিংবা তদন্তের বিষয়টি আমার জানা নেই।

পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, বন উজাড় হচ্ছে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

লাভ কমায় কমতে পারে চাল উৎপাদন

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর