কক্সবাংলা ডটকম(৩০ জুন) :: জার্মানিকে কাই হাভাৎর্জ়ের অবস্থা এখন কী? প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর গোলে নির্ধারিত সময়ে ১-১ করে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ যায়।
আর টাইব্রেকারে তাঁর মিসেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানির। ভাগ্য কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
৫৪ মিনিটে যার গোলে সমতা ফিরিয়েছিল জার্মানি, টাইব্রেকারের তাঁর প্রথম শট মিসেই বিদায় নিতে হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে।

এদিন পুরো ম্যাচে লড়াই হচ্ছিল মূলত প্যারাগুয়ের রক্ষণের সঙ্গে জার্মানির আক্রমণের। প্যারাগুয়ের অর্ধেই বল থাকছিল। কখনও কখনও দলকে সাহায্য করতে মাঝমাঠ পর্যন্ত উঠে আসছিলেন ম্যানুয়েল নয়ার।
শেষ পর্যন্ত বোস্টন স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচের ফল ছিল ১-১। এরপর ভাগ্য নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকার। সেখানেই নায়ক হয়ে ওঠেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।
প্রথমে কাই হাভার্তজ় এবং পরে নিক ভোল্টেমেডের শট রুখে দিয়ে জার্মানিকে চাপে ফেলে দেন তিনি।
টাইব্রেকারের প্রথম শটে হাভার্তজ়র বাম কোণায় নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন গিল। জার্মানির হয়ে পরে জশুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিয়েম আমিরি সফল হলেও ভোল্টেমেডের শটও আটকে দেন প্যারাগুয়ের এই গোলরক্ষক।

অন্যদিকে প্যারাগুয়ের হয়ে মাউরিসিও মাগালায়েস, গুস্তাভো গোমেস ও মাতিয়াস গালারজা গোল করেন।
আন্তোনিও সানাব্রিয়ার শট বাইরে চলে গেলেও পঞ্চম শটে ফাবিয়ান বালবুয়েনার প্রচেষ্টা রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার। ফলে ম্যাচ গড়ায় ষষ্ঠ শটে।
সেখানে জনাথন তাহ বল উড়িয়ে মারলে জয়ের সুযোগ পেয়ে যান হোসে কানালে। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি।
জোরালো শটে নয়্যারকে পরাস্ত করে প্যারাগুয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
জার্মানির গোলকিপার হিসেবে ম্যানুয়েল ন্যুয়ের থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন টাইব্রেকারে হয়তো শেষ হাসি তিনিই হাসবেন, কিন্তু সেটা হয়নি। তাঁর হাত ধরেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির প্রথম টাইব্রেকার পরাজয় হলো।
এর আগে চারবার টাইব্রেকারে নেমে প্রতিবারই জয় পেয়েছিল তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জয় পেল প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের ছবি
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল জার্মানির। প্রথমার্ধে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। বরং ৪২ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হুলিও এনসিসো।
এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল তাদের প্রথম গোল। এর আগে চারটি বিশ্বকাপে নকআউটের পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোল করতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরে জার্মানি। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজ়ের ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান কাই হাভার্তজ়। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় গোল।
এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল আর আসেনি। ৭৮ মিনিটে হাভার্তজ় আরেকটি হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন অরল্যান্ডো গিল। ইনজুরি টাইমেও জার্মানি গোলের খুব কাছে পৌঁছালেও সফল হয়নি।
এর পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানেও হাভার্তজ়ের একটা শট রুখে দিন অরল্যান্ডো গিল। এরপর অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই জার্মানিকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে শেষ হাসি হাসে প্যারাগুয়ে।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক জার্মানির বিশ্বকাপ টাইব্রেকার রেকর্ড
◆ ১৯৮২ বিশ্বকাপ: সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়
◆ ১৯৮৬ বিশ্বকাপ: কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়
◆ ১৯৯০ বিশ্বকাপ: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়
◆ ২০০৬ বিশ্বকাপ: কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়
◆ ২০২৬ বিশ্বকাপ: শেষ ৩২ রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হার















