শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

🗓 শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৮৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১ আগস্ট) :: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই দলটির কর্মকাণ্ডকে আওয়ামী লীগের শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনায় মুখর হয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল।

এ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিএনপি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের অনুসৃত ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনব্যবস্থার অনেক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে চাইছে।

তাদের মতে, সরকার সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ বাড়াচ্ছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই একাধিক সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি গুম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগের মতো একটি কর্তৃত্ববাদী কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

খুলনায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”

অন্যদিকে সিলেটের এক সমাবেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “হাসিনাকে জনগণ বিদায় করেছে। যদি নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির সমালোচনা করেছেন।

তার ভাষ্য, “বর্তমান প্রশাসন ও বিএনপি তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের ঘোষিত নীতি থেকে সরে এসে আওয়ামী লীগের মতো একপেশে ও দলীয় আচরণের পথে হাঁটছে।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরিবর্তে পুরোনো শাসনব্যবস্থার ধারা অনুসরণ করছে।

তার অভিযোগ, প্রশাসন, পুলিশ, সচিবালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দলীয় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনের শাসনের দুর্বলতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবই একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের বৈশিষ্ট্য।

বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর জনগণের মধ্যে নতুন আশার জন্ম হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান সরকারের কয়েক মাসের শাসনেই জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী মত দমনের ক্ষেত্রে সরকার আগের পথ অনুসরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও দাবি করেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল, আর বর্তমান সরকারও একই ধরনের প্রবণতা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “গণভোটে জন্ম নেওয়া বিএনপি এখন গণভোটকেই অস্বীকার করছে।”

তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগের শাসনামলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা বাস্তবসম্মত নয়।

তাদের মতে, বর্তমান সরকারের সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের মতো ঘটনা ঘটেনি এবং জনগণ এখন অবাধে মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিরোধী দল সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে এমন বক্তব্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ ছিল না। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে। মাত্র কয়েক মাসে সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও আলোচনার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিবাচক লক্ষণ।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সেটা আপনারাই বিবেচনা করুন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা এবং সরকারের পাল্টা ব্যাখ্যা দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগামী দিনে সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্নে এ বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

আইনজীবী সহকারী পরিষদ, উখিয়া’র আত্মপ্রকাশ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর