বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের সক্রিয় উগ্রবাদীরা, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

🗓 বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ আগস্ট) :: কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া, জামিনে মুক্তি কিংবা পুরোনো মামলায় খালাস পাওয়ার পর কারাগারের বাইরে আসা উগ্রবাদী ও উগ্রবাদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বোমা উদ্ধার, বিস্ফোরণ এবং বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সদস্যদের নাম সামনে আসছে। এতে উগ্রবাদ প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, পুরোনো নেটওয়ার্কের কিছু সদস্য কারাগার থেকে বের হওয়ার পর আত্মগোপনে গিয়ে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি করছে কি না, বোমা তৈরির মতো কারিগরি দক্ষতা নতুন সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে কি না এবং বিভিন্ন ছোট ছোট গ্রুপের মাধ্যমে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দি ও দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির বাইরে থাকা উগ্রবাদীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডেমরায় দুইজন গ্রেপ্তার, সামনে ‘ওস্তাদ’ পরিচয়ের জুয়েল

এর মধ্যেই রাজধানীর ডেমরা এলাকায় দুটি পাইপ বোমাসহ জুয়েল ভূঁইয়া ওরফে ‘ওস্তাদ’ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তার সঙ্গে আরিফ চৌধুরী নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এটিইউর ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়েল একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য এবং সাংকেতিক নাম ‘ওস্তাদ’ ব্যবহার করতেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

তদন্তকারীরা বলছেন, জুয়েলের অতীতও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার সময় পালিয়ে যাওয়া ৯ উগ্রবাদীর একজন ছিলেন তিনি। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আদালতে রিমান্ড আবেদনে এটিইউ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল ও আরিফের ‘দাওলাতুল ইসলাম’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে তারা একত্রিত হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‘বোমারু মামুন’কে ঘিরে নতুন করে তদন্ত

সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর তদন্তে বারবার সামনে আসছে নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’-এর নাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরিতে দক্ষ এবং অতীতে নব্য জেএমবির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও মামুনের নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হোটেল ওলিও-সংক্রান্ত মামলায় মামুনসহ ১১ আসামিকে খালাস দেন।

তবে আদালতে খালাস পাওয়ার পরও সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর আবারও তার দিকে গেছে। পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাভার এলাকায় বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদেও ‘বোমারু মামুন’-এর নাম উঠে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, মামুন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও তার পুরোনো যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বোমা তৈরির কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার—তদন্তে নতুন নেটওয়ার্কের সন্ধান

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে শুরু করে সাভারে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় একই ধরনের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানের সঙ্গে ‘বোমারু মামুন’-এর যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সাভার এলাকায় উগ্রবাদীদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের তদন্তে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বোমা উদ্ধার বা বিস্ফোরণের কয়েকটি ঘটনাকেও একই নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগের দিক থেকে যাচাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলার পর বোমার ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যাওয়া এবং সায়েদাবাদে তল্লাশির সময় বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে এসব ঘটনায় মামুন বা তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তাধীন। ফলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কারাগার থেকে পালানো ২ হাজার ২৪০ বন্দি

উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের কয়েকটি কারাগার থেকে বিপুলসংখ্যক বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পাঁচটি কারাগারে হামলা ও বিদ্রোহের ঘটনায় মোট ২ হাজার ২৪০ বন্দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে উগ্রবাদী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলার আসামিও ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান, আত্মসমর্পণ ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে বড় একটি অংশকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো প্রায় ৬৯০ জনের হদিস পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে কারা অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা যায়।

বিশেষ করে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালানো বন্দিদের একটি অংশের তথ্য কারাগারের নথি বা অনলাইন ব্যবস্থায় যথাযথভাবে না থাকায় তাদের শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নথি নষ্ট হওয়ার ঘটনাও এ ক্ষেত্রে তথ্য ঘাটতি তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, পলাতক বন্দিদের সবাই যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি অপরাধী বা উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

পলাতক উগ্রবাদীদের নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি

পলাতকদের দেশত্যাগ ঠেকাতে তাদের তালিকা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত করতে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করছে।

তদন্তকারীদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিরা নতুন পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো মামলা, কারাগারের নথি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য অসম্পূর্ণ, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

এ কারণে শুধু গ্রেপ্তার নয়, পলাতকদের পুরোনো যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ও অনলাইন যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কেও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রকাশ্যে মন্তব্যে অনীহা, তবে অভিযান অব্যাহত

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

মতিঝিল ও সাভারে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনীহা রয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, তদন্তাধীন ঘটনায় অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করলে তদন্তের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরাও সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া বোমার সূত্র ধরে সাভারেও অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে বোমা ও সরঞ্জামসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী বলেন, উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে বা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তুগুলো কোনো ধরনের হতাহত ছাড়াই নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য হুমকি শনাক্তকরণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, উগ্রবাদ প্রতিরোধ শুধু গ্রেপ্তার ও মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বা পুরোনো মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত সীমারেখা মেনে ঝুঁকি মূল্যায়ন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বহুমাত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নানা সংকট উগ্রবাদী মতাদর্শ বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তার মতে, সরকারকে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে। উগ্রবাদে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কারাগারে থাকা এবং মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশোধন, পুনর্বাসন ও ঝুঁকি মূল্যায়নের সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি পুরোনো নেটওয়ার্ক?

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোতে পুরোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সদস্যদের নাম একাধিকবার সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষ করে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক বন্দির এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা, পুরোনো মামলার আসামিদের জামিন বা খালাসের পর অবস্থান শনাক্তে জটিলতা এবং বোমা তৈরিতে দক্ষ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সন্দেহভাজনদের যোগাযোগের অভিযোগ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে তদন্তাধীন এসব ঘটনায় কারা প্রকৃত অর্থে জড়িত, পুরোনো নেটওয়ার্ক কতটা সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে বাস্তবে কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র আছে কি না—তা নিশ্চিত হতে চলমান তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধে গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

নিরাপদ সীমার নিচে সারের মজুত

রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর