শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ

🗓 মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ৪৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ৪৫ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২২ সেপ্টেম্বর) :: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেই। অথচ বাংলাদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের কারণে চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠলেও তা চলতি বছরের এপ্রিল কিংবা ২০০৮ সালের রেকর্ড দামের তুলনায় অনেক কম।

এর মধ্যেই সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে চার ধরনের জ্বালানিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।

শতাংশের হিসাবে সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধিতে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, কেরোসিন ১৪ দশমিক ৮, পেট্রল ১৪ দশমিক ৩ এবং অকটেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছর তিন দফা মূল্য সমন্বয়ের পর এপ্রিলের আগের দামের তুলনায় ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩, পেট্রল ৪৪ এবং অকটেন ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এসব জ্বালানির বর্তমান দাম আগের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ বেশি।

রেকর্ড দামের সঙ্গে এবারের পার্থক্য

দেশে বড় ধরনের জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের অতীত নজিরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড বা রেকর্ডের কাছাকাছি ওঠার পর দেশে বড় মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

চলতি মাসের মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর তা আবার ১০৪ ডলারে নেমে আসে। গতকাল রাত ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৯৯ ডলার।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও তা এপ্রিলের রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল না। পাঁচ মাস আগে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগের সময় তাৎক্ষণিক সরবরাহযোগ্য ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৪ দশমিক ৪২ ডলারে উঠেছিল। ফিউচার মার্কেটেও দাম উঠেছিল ১২৬ ডলার পর্যন্ত। ফলে চলতি সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে মূল্য দেখা যাচ্ছে, তা এপ্রিলের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তারপরও দেশে এবার চার ধরনের জ্বালানির দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

ডিজেলের প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে অর্থনীতিতে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ডিজেলের ক্ষেত্রে। কারণ দেশের মোট পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহারের প্রায় ৬৪ শতাংশই ডিজেল। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিভিন্ন উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু পরিবহন ভাড়ায় সীমাবদ্ধ থাকে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে ২০০৮ বা ২০২২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মতো নয়। ফলে চার ধরনের জ্বালানির দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর বিষয়টি শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দামের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক চাপ এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বিপণন ব্যয়ের মধ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একবারে বড় আকারে মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

বিপিসির লোকসান ও সরকারের যুক্তি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দীর্ঘ সময় দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। এ কারণে বিপিসিকে বড় অঙ্কের লোকসান বহন করতে হয়েছে।

এর সঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। জ্বালানি পাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং বিপিসির লোকসান কমাতে এবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, উপায়হীন না হলে সরকার এ ধরনের অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তেলের পাশাপাশি জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। এ অবস্থায় মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসিকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় না করায় প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চলতি বছর তিন দফা মূল্য সমন্বয়

চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলেও দেশে প্রথম দিকে দাম অপরিবর্তিত ছিল। এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠার পর ১৯ এপ্রিল থেকে দেশে প্রথম বড় মূল্য সমন্বয় করা হয়।

তখন ডিজেল ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা করা হয়।

এরপর জুনে দ্বিতীয় দফায় মূল্য সমন্বয়ের সময় ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হলেও কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরো ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এতে কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় পৌঁছায়। জুলাই ও আগস্টে এ দাম অপরিবর্তিত ছিল।

সেপ্টেম্বরে এসে তৃতীয় দফায় চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হলো। ফলে এপ্রিলের আগের দামের তুলনায় ডিজেলের দাম ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩, পেট্রল ৪৪ এবং অকটেন ৪৫ টাকা বেড়েছে।

২০২২ সালের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য

বাংলাদেশে ২০২২ সালের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম এবং ডলারের বিনিময় হার বড় ভূমিকা রেখেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ৭ মার্চ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ ছিল।

এর প্রায় পাঁচ মাস পর, ২০২২ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশে এক দফায় বড় ধরনের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৮০ থেকে ১১৪ টাকা, পেট্রল ৮৬ থেকে ১৩০ টাকা এবং অকটেন ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়। এক লাফে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ, পেট্রল ৫১ দশমিক ১ এবং অকটেন ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল।

সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার দ্রুত অবমূল্যায়নও আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। ১৫ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ১০২ টাকা ৭ পয়সায় দাঁড়ায়। পাঁচ মাসেরও কম সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয় প্রায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থায় ডলারের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় ২০২২ সালের মতো দ্রুত মুদ্রা অবমূল্যায়নের ধাক্কা নেই। ফলে এবারের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, বিপিসির আর্থিক চাপ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক রেকর্ডের সময় দাম বেড়েছিল

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। ওই বছরের জুলাইয়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও উঠেছিল প্রায় ১৪৭ দশমিক ৫ ডলারে।

ওই সময় বাংলাদেশে জুলাইয়ের শুরুতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, পেট্রল ৬৫ থেকে ৮৭ টাকা এবং অকটেন ৬৭ থেকে ৯০ টাকা করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত কমে এলে অক্টোবরে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল।

অর্থাৎ ২০০৮ এবং ২০২২ সালের বড় মূল্য সমন্বয়ের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছিল রেকর্ড বা রেকর্ডের কাছাকাছি। এবারের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সেই মাত্রার মূল্য দেখা না গেলেও দেশের বাজারে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খুচরা দামে আন্তর্জাতিক মূল্য ছাড়াও বহু ব্যয় যুক্ত

জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত খুচরা মূল্য শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না। স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ কাঠামো অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মূল্য বা আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট যুক্ত হয়। এর পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া, বীমা, সরবরাহকারীর মার্জিন, বন্দরে খালাস, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং, এলসি কমিশন, পরিবহন, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হয়।

এর সঙ্গে বিপিসির মার্জিন এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ও বিতরণ ব্যয়ও চূড়ান্ত দামের অংশ।

জ্বালানি মূল্যের এ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটির বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও বিনিময় হারের পাশাপাশি কর, বিপিসির মার্জিন, পরিচালন ব্যয়, পরিবহন ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন উপাদানের স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয়, লিকেজ এবং পরিচালন অদক্ষতার ব্যয় ভোক্তার ওপর কতটা চাপানো হচ্ছে, সেটিও আলাদাভাবে পরিমাপের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করে।

বড় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, একবারে এত বেশি দাম বাড়ানো এড়ানোর সুযোগ সরকারের ছিল। বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ে পড়বে।

তার মতে, এর সামগ্রিক প্রভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হলে দীর্ঘ সময় দাম অপরিবর্তিত রেখে পরে একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সব মিলিয়ে এবারের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন অতীতের রেকর্ড পর্যায়ে নেই, তখন দেশের বাজারে কেন চার ধরনের জ্বালানির দাম একসঙ্গে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে হলো। সরকারের পক্ষ থেকে বিপিসির লোকসান, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, জাহাজ ভাড়া, পাচার রোধ ও ভর্তুকির চাপকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে আসছে মূল্য সমন্বয়ের পদ্ধতি, সময় নির্বাচন, বিপিসির ব্যয় কাঠামো এবং একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক অভিঘাতের বিষয়টি।

জ্বালানি তেলের দাম পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় নতুন মূল্য কাঠামোর প্রভাব শুধু জ্বালানি ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব ধাপে ধাপে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ও ভোক্তা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর