রবিবার ২৮শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৮শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নির্বাচনের বছরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমছে না

বুধবার, ০৭ মার্চ ২০১৮
355 ভিউ
নির্বাচনের বছরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমছে না

কক্সবাংলা ডটকম(৬ মার্চ) :: নির্বাচনের বছরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমাবে না সরকার। বরং সঞ্চয়কারীদের সুবিধার্থে সঞ্চয়পত্র বেচাকেনার প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের সঞ্চয়পত্রের অফিসগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এর ফলে গ্রাহককে সঞ্চয়পত্র ক্রয়, নগদায়ন কিংবা মুনাফা তোলার জন্য সরাসরি সংশ্নিষ্ট অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনে এ-সংক্রান্ত সব সেবা পাবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এ মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমালে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এমন ঝুঁকি নেবে না সরকার।

সূত্র জানায়, ‘সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার করা হবে। প্রথমে একটি তথ্যভাণ্ডার বা ডাটা ব্যাংক গড়ে তোলা হবে এবং পরে যেসব সরকারি অফিসের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয় সেগুলোকে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত করা হবে। ডাটা ব্যাংকে সঞ্চয়কারীদের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে নাম-ঠিকানা, বিনিয়োগের অঙ্ক, সঞ্চয়পত্র স্কিমের নাম, কোন স্থান থেকে কেনা করা হয়েছে- ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

বর্তমানে পোস্ট অফিস, সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকের শাখা ও ব্যুরো অফিসের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয়। সারাদেশে পোস্ট অফিস আছে সাড়ে আট হাজার। সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ৭৩টি। সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের শাখাসহ এসব অফিসকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। সংস্কারের উদ্দেশ্য হচ্ছে পুরো সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা। এর ফলে দুর্নীতি কমবে এবং গ্রাহকরা উপকৃত হবেন।

বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক বর্তমানে সরকারি মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, অপব্যবহার রোধে সংস্কার অপিরহার্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী ও পেনশনভোগীরা উপকৃত হবেন।

বর্তমানে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যায়। বিনিয়োগে নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। নির্ধারিত সীমার বেশি বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

গত মাসে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি অফিসকে অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে আগামী দুই বছরের মধ্যে সকল অফিসকে অটোমেশন করা হবে।

কয়েক বছর ধরে একমাত্র সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য ক্ষেত্রগুলো থেকে আশানুরূপ মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারে মন্দাভাব। ব্যাংকগুলোর সুদহারও আকর্ষণীয় নয়। ফলে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে সঞ্চয়পত্র। মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রয় হওয়ায় সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মুনাফা কমাতে কয়েক দফা উদ্যোগ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু নানা মহলের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসেন তিনি।

বাজেটে বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার আড়াইগুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় গত অর্থবছরে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রয় হয়। যেখানে মূল বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিট বিক্রয় ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। গত জুনে বাজেট ঘোষণার সময় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালায় সূত্র বলেছে, লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে এবার ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। তবে যেভাবে বিক্রয়ের চাপ বাড়ছে তাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।

গত বছর সুদ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। এর বেশিরভাগই সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।

355 ভিউ

Posted ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সকল পত্রিকা সাইট
Bangla Newspaper

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com