সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৯৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৯৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজার জেলায় একদিনে ৪টি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজার শহরতলী থেকে ৩টি ও চকরিয়া ও উখিয়া থেকে ২টি লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে ১টি হত্যাকান্ড এবং অপর ৪টি লাশ উদ্ধার হয়। নিহতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা।

জানা যায়, কক্সবাজার শহরতলীর বিজিবি ক্যাম্পের পল্লান কাটায় “বাড়ির সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলাকালে টাকা দাবি করা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে হিন্দু ব্যবসায়ী গনেস পালকে হত্যা করেছে এলাকার সন্ত্রাসীরা।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বিজিবি ক্যাম্পের পল্লন কাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গণেশ পাল (৪০) ওই এলাকার বাসিন্দা বিশ্বনাথ পালের ছেলে।

গনেস পাল কক্সবাজার শহরের বড়বাজার এলাকায় চা ব্যবসা করতেন।

ব্যবসায়ীক কারণে শহরের বিজিবি ক্যাম্পের পল্লান কাটায় বসবাস করতেন। তার পৈত্রিক বাড়ি মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড পদ্মপুকুর পাড়ায়।

এলাকাবাসী জানান, তাদের বাসায় একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছিল।

শুক্রবার রাতে এলাকার জাকিরের ছেলে সন্ত্রাসী জিদান নামে এক ব্যক্তি গণেশ পালের দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন।

কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আজ দুপুরে জিদান ও তার এক সহযোগী তাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়।

তিনি আরও জানান, তার চোখের সামনেই জিদান ও তার সহযোগী গণেশ পালের ওপর ছুরিকাঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত জিদানের বাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের পল্লন কাটা এলাকায়। তিনি রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে কক্সবাজারের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী বিক্ষোাভ করে প্রতিবাদ জানায়।

এদিকে শনিবার (৭ মার্চ) সকালে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় কায়সার নামে এক ইজিবাইক চালকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত যুবক কায়সার চন্দনাইশ উপজেলার সাতবারিয়া ৫নং ওয়ার্ডের মোজাহের পাড়ার মোহাম্মদ সিরাজ এর ছেলে।

দক্ষিন কলাতলীর একটি বাসায় স্ত্রীসহ কায়সার বসবাস করতেন। পেশায় সে একজন ইজিবাইক চালক।

নিহতের স্ত্রী জানায়,” ধার দেনা নিয়ে সেহেরি সময় ঝগড়া হয়, আমাকে মারধর করে বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে, আমি আমার মা কে ডাকতে গেলে এসে দেখি বাসার দরজা বন্ধ।

পরে জানালা দিয়ে দেখি আমার স্বামী কায়সার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে।

সদর থানার ওসি ছমির উদ্দিন বলেন , সকালে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই যুবককে ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।পারিবারিক কলহ জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হলেও অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অপরদিকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎসের খুঁজতে গিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লিফটের নিচের গর্তে এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে।

নিহত নারীর নাম কোহিনূর আকতার(২৮)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশু সন্তানের চিকিৎসা করতে গিয়ে গত চার দিন নিখোঁজ ছিল।

তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমিউদ্দীন বলেন, গত ৩ মার্চ কোহিনূর আকতারের বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৫) অসুস্থ হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

শিশুটিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মা ও মেয়ে উভয়েই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ৪ মার্চ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনূর আকতার ওষুধ আনার কথা বলে হাসপাতালের পঞ্চম তলা থেকে নিচে নামেন।

এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ নারীর শ্বশুর আলী আকবর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

ওসি বলেন, নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ কোহিনূর আকতারকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকে।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ জানায়, লিফটের নিচে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।

ওই নারী কীভাবে গর্তে পড়ে গেছে, তার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং নিও বলেন, হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে গন্ধ বের হলে উৎস সন্ধানের পর গর্তে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহের সন্ধান পেয়ে স্বজনদের তথ্যটা জানানো হয়। নিহতের স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম চলে।

লিফটের নিচে তিনি কীভাবে গেলেন তার কোনো ক্লু মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের উলবুনিয়া থেকে আয়েশা ছিদ্দিকা (১৯) নামের গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আয়েশা ছিদ্দিকা ওই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী আবদুল মুবিন ও স্ত্রী আয়েশা ছিদ্দিকার মধ্যে পারিবারিক কলহ-বিবাদ চলে আসছে।

কয়েকদিন পরপরই এদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির দরজা বন্ধ করে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে রাখে।

স্থানীয়রা বিষয়টি চকরিয়া থানা পুলিশকে জানায়।

থানার এসআই মো.আকরামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত আয়েশা ছিদ্দিকার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

চকরিয়া থানার এসআই মো.আকরাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

গিয়ে দেখি নিহত আয়েশা ছিদ্দিকার লাশ বাড়ির মেজেতে শুইয়ে রাখা আছে।

স্থানীয় লোকজন বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানতে পারি। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই ফরিদ হোসেন বলেন, লাশ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আয়েশা ছিদ্দিকার স্বামী আবদুল মুবিন পলাতক রয়েছে। আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা জানার জন্য তদন্ত চলছে।

অপরদিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর মারধরে আনোয়ারা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আনোয়ারা বেগম উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিম পাড়ার আব্দু মজিদের মেয়ে।

অভিযুক্ত স্বামী মোঃ জলিল (৩৫) জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া বাদামতলী এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ২টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর নিদানিয়া এলাকায় বাজার করার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে স্বামী মোঃ জলিল উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে লক্ষ্য করে সজোরে লাথি ও কিল ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে যান।

​পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারপাড়া বাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক আনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দিদার জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর