কক্সবাংলা ডটকম(৩০ এপ্রিল) :: ভারত সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখে এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ব্যয়কারী দেশে পরিণত হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশটি অস্ত্র রপ্তানিতেও ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, ভারতের তৈরি ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্র আর্মেনিয়ায় রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেশি।
এ ব্যয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির পরেই ভারতের অবস্থান।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ভারত—মিলিয়ে মোট বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ বহন করেছে।
SIPRI আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২,৮৮৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৯ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, আর্মেনিয়া ভারতের তৈরি ‘প্রলয়’ স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
‘প্রলয়’ একটি ট্যাকটিক্যাল সারফেস-টু-সারফেস কোয়াসি-ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার।
তবে আন্তর্জাতিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (MTCR) অনুসারে রপ্তানির ক্ষেত্রে এর পাল্লা কিছুটা কমানো হতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ নির্ভুলতা (CEP), যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকরভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
পাশাপাশি এর ম্যানুভারেবল কোয়াসি-ব্যালিস্টিক গতিপথ শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্মেনিয়ার এই আগ্রহের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে আজারবাইজানের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল হামলা সক্ষমতার মোকাবিলা।
এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি ‘LORA’ মিসাইল সিস্টেমের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে আর্মেনিয়া ভারত থেকে ‘পিনাকা’ মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার এবং ‘আকাশ’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।
প্রস্তাবিত ‘প্রলয়’ চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে ভারতের এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আন্তর্জাতিক রপ্তানি।
তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, SCOMET ও MTCR নীতিমালা অনুসরণ করে সম্ভাব্য রপ্তানি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।













