কক্সবাংলা ডটকম(১২ মার্চ) :: সংসদ নির্বাচনের এক মাসের মাথায় যাত্রা করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। গতকাল বেলা ১১টার পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের আসন খালি রেখেই কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে বিএনপির প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর নতুন সংসদকে স্বাগত জানিয়ে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। অধিবেশনে সংসদের সভাপতিমণ্ডলী গঠন ও শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়।
সবশেষে রাষ্ট্রপতির আগমন ও ভাষণকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ-হট্টগোল। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য গতকাল নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন কক্ষে আসন গ্রহণ করেন সদস্যরা। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পর ১১টা ৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সংসদ সচিব কানিজ মওলা সংসদ নেতাকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ জানান। স্বাগত বক্তব্য শেষে সংসদ নেতা তারেক রহমান অধিবেশনের প্রথম সেশনের সভাপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।
তার প্রস্তাবে দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দলের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমর্থন জানান। তখন স্পিকারের আসনে যান সেশন সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শেষে ৩০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন।
অধিবেশনে ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদকে জানান, দুটি পদে একটি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ভোটে দেয়ার বিধান থাকায় তা কণ্ঠভোটেও সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সংসদ ভবনে তার কক্ষে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বেলা ১টার পর স্পিকারের আসনে বসেন নবনির্বাচিত হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে সংসদের মাইক কাজ করছিল না। স্পিকার তখন বলেন, তিনি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করছেন। হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে তিনি নামাজের জন্য ২০ মিনিট বিরতির ঘোষণা দেন।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতার স্বার্থে বিএনপির সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ; এছাড়া দলীয় পদ ছেড়েছেন নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও। গতকাল দুপুরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পৃথক চিঠিতে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এ মহান জাতীয় সংসদকে সব যুক্তিতর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থরক্ষা করার রাজনীতি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। এ মহান জাতীয় সংসদে সব দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।
বাংলাদেশে ফের কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমৃদ্ধ, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্পিকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংসদকে সরকার প্রাণবন্ত করে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।
সংসদ নেতার বক্তব্যের পর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, নতুন সংসদ গতানুগতিক কোনো সংসদ নয়; এটি জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি সংসদ। তাই এ সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার। জুলাই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। সেই প্রত্যাশা থেকেই স্পিকার যদি সংসদের ওপর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে তা দেশের ১৮ কোটি মানুষের ওপর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।
তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং সংসদের সব গঠনমূলক কার্যক্রমে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।
এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী (প্যানেল স্পিকার) মনোনীত করা হয়েছে। স্পিকার এ প্যানেল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এ প্যানেল স্পিকাররা নামের ক্রমানুসারে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। তারা হচ্ছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-২), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২), মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে হট্টগোল
অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমন বার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর মধ্যেই বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা এ সময় সম্মান জানাতে আসন থেকে উঠে দাঁড়ান। বিরোধী জোটের সদস্যরা তখন বসে পড়েন। তবে জাতীয় সংগীত শুরুর কিছুক্ষণ পর তারা আবার উঠে দাঁড়ান। জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় বিক্ষোভরত সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে ডায়াসের সামনে গেলেও বিক্ষোভ চলতে থাকে। তিনি তখন দাঁড়িয়ে থাকেন। এ হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন এমপি বিক্ষোভরতদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না, রাষ্ট্রপতি অর্ধেক মানছেন, অর্ধেক মানছেন না। তাকে অসম্মান করছেন। এক পর্যায়ে স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ শেষ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
শোক প্রস্তাব উত্থাপন
এদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশী-বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব আনা হয়। স্পিকারের পক্ষ থেকে এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে স্পিকার বলেন, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।
যে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কেএম সফিউল্লাহ, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনসহ ৩১ জন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
গতকাল স্পিকার যখন শোক প্রস্তাব উত্থাপন করছিলেন তখন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপেশে। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানসহ আরো কয়েকজন নেতার জন্য শোক প্রস্তাব আনার দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নিয়ে শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ ও ফেলানী খাতুনের নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন।
অধ্যাদেশ উত্থাপন ও বাছাই কমিটি গঠন
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন। অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্পিকার এ কমিটির প্রস্তাব ভোটে দিলে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও কার্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
আরো চারটি কমিটি গঠন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এসব কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়। সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি ও সংসদ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন স্পিকার। অন্যদিকে বিশেষ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির প্রস্তাব দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সেগুলো অনুমোদিত হয়।
কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কমিটির সদস্যরা হলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মো. নূরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম, নাহিদ ইসলাম ও নওশাদ জামির।
সংসদ কমিটির সভাপতি চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সদস্যরা হলেন রাকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, কায়ছার আহমদ, শহীদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাইফুল আলম ও আবুল হাসনাত।
বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সদস্যরা হলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, কায়সার কামাল, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নূরুল ইসলাম মনি, জয়নাল আবদিন ফারুক ও নাহিদ ইসলাম। বিরোধী দল থেকে আরো একজন সদস্য পরে মনোনীত করা হবে বলে জানানো হয়।
বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান। সদস্যরা হলেন মো. আসাদুজ্জামান, আমান উল্লাহ আমান, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদী, নওশাদ জামির, শাহজাহান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বুলবুল ও আখতার হোসেন।
সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে বিপর্যয়, অধিবেশন বিঘ্নিত
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গতকাল স্পিকারের মাইকে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তখন ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। নির্ধারিত অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিকারের মাইক্রোফোনে সমস্যা দেখা দেয়। স্পিকার কথা বলতে গেলে শব্দ বিভ্রাট এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। সংসদ সচিবালয়ের কারিগরি দল দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। স্পিকার এ সময় বলেন, এ মহান সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য আমি সব সদস্যকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বর্তমানে একটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে আমার কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে না, তাই আমাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আমার মূল মাইকটি বর্তমানে অকেজো থাকায় আমি হ্যান্ড মাইকে কথা বলছি। আশা করি, মূল মাইকটি শিগগিরই ঠিক হয়ে যাবে। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন।
আজানের সময় হয়েছে জানিয়ে স্পিকার তখন নামাজের সুবিধার্থে অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য বিরতি ঘোষণা করেন।














