কক্সবাংলা ডটকম(২১ মার্চ) :: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘কৃষিখাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’ অভিহিত করে এটি বাতিলের দাবি তুলেছে ‘বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন’।
বুধবার বিবৃতিতে এ দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “গত ৯ ফেব্রুয়ারি অবিশ্বাস্য তড়িঘড়ি এবং গোপনীয়ভাবে সম্পাদিত আমেরিকা-বাংলাদেশ পারস্পারিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।
“বিশেষত কৃষিখাত ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি করতে বাধ্য থাকবে।”
চুক্তির শর্ত তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন গম এবং অন্তত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ টন সয়া ও সয়াজাত পণ্য ও তুলা।
“গম, তুলা, সয়াবিন, সবকিছুই বর্তমানে অন্য দেশ থেকে আমদানি মূল্যের কয়েক গুণ বেশি দামে কিনতে হবে।
এছাড়া গরুর মাংস, দুধ জাতীয় বিভিন্ন পণ্য (পনির, দই, ঘি ইত্যাদি), হাঁস-মুরগি-ভেড়া ও পোল্ট্রিজাত বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে বাধ্য থাকবে।
“এভাবে আমদানির ফলে দেশের বিকাশমান পোল্ট্রি, ডেইরি শিল্প প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়বে। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। বেশি দামে খাদ্য পণ্য আমদানির ফলে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
বিনাশুল্কে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪,৫০০ পণ্য আমদানি করতে হবে, যার বেশির ভাগই কৃষিপণ্য। এর ফলে কৃষক, খামারি, ক্রেতা, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
সংগঠনটির ভাষ্য, “চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ কৃষিখাতে কোনো ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং যেসব খাতে ভর্তুকি দেয়, সেগুলো আমেরিকার কাছে প্রকাশ করতে হবে।
অথচ আমেরিকা নিজ দেশে কৃষিখাতে ব্যাপক ভর্তুকি দেয়। তাদের পণ্য রপ্তানির জন্য আমাদের মতো দেশগুলোতে কৃষি খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার শর্তারোপ করে।
“চুক্তিতে জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজম) খাদ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জিএমও খাদ্য মানুষ, পরিবেশ, অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আরও ভয়ংকর বিষয়, এ ধরনের পণ্যের মোড়কে এটা যে জিএমও, তা উল্লেখ করা যাবে না।”
‘অবিলম্বে’ এই চুক্তি বাতিলের দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে এই দেশবিরোধী চুক্তি করলেও নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা বাতিল বা পর্যালোচনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
“এ পরিস্থিতিতে আমরা দেশের কৃষক, খামারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, গবেষক, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে কৃষিখাত ধ্বংসকারী এই চুক্তি বাতিলের জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানাই।”
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিন কয়েক আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সই হয় ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তিটি।
ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা এ চুক্তির বিভিন্ন দিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। তারা দেখতে পান, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘কঠোর’ এক চুক্তি।
কেউ কেউ এতে বাণিজ্যের চেয়ে ‘রাজনৈতিক উপাদান’ বেশি থাকার কথাও বলেছেন।














