সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে সৌদি আরব ও আমিরাত

🗓 বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩৭১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩৭১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

তারা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়, তাহলে এটি হবে প্রথম পারস্য উপসাগরীয় দেশ, যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের অনুমোদনের জন্য দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা করছে।

আমিরাতের কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ-এশিয়ার সামরিক শক্তিগুলোর কাছে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

যাতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি খুলে দেয়া যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি থাকা বাহরাইন এই প্রস্তাবটি স্পনসর করছে এবং বৃহস্পতিবার ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কীভাবে ‘সামরিক ভূমিকা’ রাখতে পারে, তা সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে।

এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পাতা মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম। এছাড়া ইউএই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলো, যেমন আবু মুসা দখলের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে এই দ্বীপ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমিরাত দাবি করে তা নিজেদের।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে।

এই অবস্থান আমিরাতের জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। কারণ দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনীতিকে সহায়তা করে এসেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও এখন ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা চায় যুদ্ধ চলতে থাকুক যতক্ষণ না ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল বা পতন ঘটে।

তবে তারা এখনো সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি।যুদ্ধের মধ্যে ইরানি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ বা ট্রানজিট নিষিদ্ধ করেছে আমিরাত। এ কথা জানিয়েছে তিনটি বড় এয়ারলাইন।

তারা হলো এমিরেটস, ইতিহাদ এবং ফ্লাইদুবাই। তবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ধারীরা (১০ বছরের আবাসন অনুমতি) এখনো প্রবেশ করতে পারবেন।

এদিকে দুবাই ইতিমধ্যে ইরানিয়ান হাসপাতাল ও ইরানিয়ান ক্লাব বন্ধ করে দিয়েছে, যা শাহ আমলের সময় থেকে চালু ছিল।

আমিরাতের এই পদক্ষেপের খবর আসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর।

তিনি বলেন, তার দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠন করছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের মতে, তিনি মন্ত্রিসভায় বলেছেন, কিছু আরব দেশ আমাদের পাশে থেকে একসঙ্গে লড়াই করার কথা বলছে।

তিনি আরও বলেন, আগে আমি আরব নেতাদের সঙ্গে গোপনে কথা বলেছি। তখন তারা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। কিন্তু এখন তারা বুঝছে।

সৌদি আরবও ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরান যদি সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করে, তাহলে তারা যুদ্ধে যোগ দিতে পারে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, আমাদের কাছে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যদিও সৌদি আরব এখনো সরাসরি প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়নি। কারণ এতে আরও বড় হামলার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর যে সামান্য আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

ইরান ইতিমধ্যে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির তেলনির্ভর অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর